1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
অবাধে পোনা মাছ শিকার, হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন

অবাধে পোনা মাছ শিকার, হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫
  • ৩৫২ জন দেখেছেন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা-বারোমাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে বৈরালীসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময় এ অঞ্চলের নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়তো বৈরালীসহ রুই কাতলা টেংনা সহ বিভিন্ন মাছ। তবে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়তো বৈরালী মাছ। সেই বৈরালী আজ বিলুপ্তির পথে। ২০১৫ সালে বৈরালী মাছটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা আই ইউ সি এম। তবে স্থানীয় মৎস্য গবেষকরা দীর্ঘদিন বৈরালী মাছের গবেষণার পর পুকুরে সফলভাবে প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছে। ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীতে প্রতিবছর শীত ও গ্রীষ্মের সময় সামান্য পরিমাণে বৈরালী সহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে একদম পাওয়া যায় না। বর্তমানে নদ-নদীতে বৈরালী রুই কাতলা টেংরা, বালিয়া,বাইম, রুই বোয়াল মাছ পাওয়া যায় তাও পরিমাণে অনেক কম।

এ সব ধরলা -বারোমাসিয়া নদীতে কয়েকশ জেলে প্রতিদিন জাল ফেলে কয়েক বার টানলেও আশানুরূপ বৈরালী সহ দেশী কোনো মাছ পাওয়া যায় না। যে টুকু মাছ পাওয়া যায় তাও চড়া দামে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি বৈরালী মাছ ৬শ থেকে ৭শ টাকা দরে বিক্রি হয় অন্যান্য মাছ সাইজ ভেদে ৮শ থেকে প্রতিকেজি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
উপজেলার ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীতে যতটুকু বৈরালী সহ বিভিন্ন মাছ এখনও যে মাছ আছে তাও হুমকির মুখে। কারণ আধুনিক পদ্ধতিতে নদীতে ব্যাটারি ফেলে কারেন্ট শক দিয়ে মাছ ধরছে জেলেরা। এতে মাছের ডিম সহ পোনা মাছ গুলো মারা যায় প্রতিনিয়ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বৈরালী সহ নদীর মাছ ব্যাটারি পদ্ধতির কারণে আর কোনো মাছ পাবে না। নদ-নদীগুলোতে পানির সরবরাহ কমে যাওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার, কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে পোনা মাছ শিকারসহ অভয় আশ্রম থেকে মা মাছ শিকারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে সুস্বাদু বৈরালীসহ দেশীয় মাছ।
ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একশ্রেণীর লোকেরা প্রতিযোগিতামূলক কারেন্ট জাল ও অন্যান্য জাল দিয়ে ডিমওয়ালাসহ পোনা মাছ অবাধে শিকার করছে। স্থানীয়ভাবে তেমন কেউ অবাধে মাছ শিকারকারীদে প্রতিবাদ করছে না। ফলে এ অঞ্চলের মাছের নিরব কান্না শুনার যেন কেউ নেই বলে মনে করছেন অনেকেই।

এসব নদী ও জলাশয়ে মাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়ে থাকে। বাংলা বছরের বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত নানা প্রজাতির মাছগুলো নদী নালা খালবিলে ডিম ছাড়ে। এ সময় মাছগুলো শিকার না হলে ব্যাপক আকারে মাছের বিস্তার দেখা যেত।

কিন্তু একশ্রেণীর লোকজন কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র দিয়ে মাছগুলো শিকার করছে। যদিও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে এসব লোকদের হাত থেকে মাছগুলোকে রক্ষা করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। এ বছর অভিযান শুরু না করায় অবাধে কারেন্ট জাল, মা-মাছ ও পোনা মাছ শিকার করছে।
মৎস্যজীবীরা জানান, ২০/২৫ বছর আগেও ধরলা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা দুধকুমার ও বারোমাসিয়া নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। অথচ বছরের পর বছর ধরে ডিমওয়ালা মাছ ধরা ও রেনু পোনা নষ্ট করার কারণে এসব নদ-নদী থেকে দেশী মাছ বৈলারী, বালিয়া, বালাচাটা, সরপুঁটি, টেংরা, টাকি, পুটি, শিং, মাগুর, কৈ, খলিসা, বাউশ, কালবাউশসহ কমপক্ষে ২০ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
ইতিমধ্যে ওই সব নদীতে প্রতিদিনই ডিমওয়ালা মাছ ও রেনু পোনা শিকারিদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন মৎস্য শিকারিরা প্রতি বছরই বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত এসব এলাকা থেকে ডিম ওয়ালা মাছ ধরে হাট-বাজার গুলোতে বিক্রি করে থাকে।

উপজেলার সোনাইকাজী আবদুল মতিন ও জব্বার জানান এক সময় ধরলা ও বারোমাসিয়া প্রচুর বৈরালী সহ রুই কাতলা টেংনা বোয়াল সহ বিভিন্ন পাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সারাদিনে জাল টেনে এক কেজি দেড় কেজি মাছ পাওয়া কষ্টকর হয় । কিন্তু আমাদের উপায় নেই। বাধ্য হয়ে মাছ শিকার করে জীবন জীবিকার নির্বাহ করি।

বালারহাট বাজারের দেশি মাছ বিক্রেতা জলধর বিশ্বাস, নিরঞ্জন বিশ্বাস ও আফজাল হোসেন আগে বৈরালী, টেংনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যেত। এখন সেই মাছের সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে। তবে আমরা প্রত্যেকে প্রতিদিন দুই তিন ও সর্বোচ্চ চার পাঁচ কেজি মাছ স্থানীয়দের কাছে ক্রয় করে বালারহাট বাজারে বিক্রি করি। অন্য মাছের চেয়ে ধরলা ও বারোমাসিয়া মাঝের দাম একটু বেশি। আমরা বৈরালী মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৬০০, টেংনা ৬০০ টাকা দনে বিক্রি করি।

বালারহাট মাছ বাজারের ক্রেতা ইয়াদুল হক নয়ন, শৈলান চন্দ্র রায় ও মানিক মিয়া জানান, বৈরালী টেংনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ প্রতিদিন বাজারে বিক্রি করছেন। বাজারে ছোট বৈরালী উঠলেও প্রচুর দাম। প্রতিকেজি মাছ ৫৫০ থেকে ৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মাছ গুলোর চাহিদা থাকায় দাম বেশি। তবে এই দুই ক্রেতা এসব ছোট ছোট পোনা মাছে শিকারে মৎস্য বিভাগের কট্টর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তা না হলে এই মাছ চিরদিনের মতো বিলুপ্ত হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জেলে ও স্থানীয়রা যাতে এ সব নিষিদ্ধ চায়না জাল দিয়ে দেশি প্রজাতির পোনা মাছ শিকার না পারে ইতোমধ্যে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে আগামী শনিবার ও রবিবার মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। সেই সাথে পোনা মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )