


গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহরস্থ মিষ্টান্ন ভান্ডার হোটেলে কারিগর হিসেবে ভবেশ জন্দ্র সরকার (৭২) নামের এক ব্যক্তি কাজ করেন। এরই মধ্যে হোটেলে ফ্রিজের তার ইঁদুরে কাটাকে দায়ী করে তাকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়াসহ শারীরিক জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে হোটেল মালিক আবু তালেব মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়ে সোমবার (২ জুন) পর্যন্ত সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন ভবেশ জন্দ্র সরকার। সেখানে জখমি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি।
স্বজনরা জানায়, সাদুল্লাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নের জামডাঙ্গা গ্রামের মৃত ভরত চন্দ্র সরকারের ছেলে বৃদ্ধ ভবেশ চন্দ্র সরকার সাদুল্লাপুর শহরের মিষ্টান্ন ভান্ডার নামের হোটেলে কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ হোটেলে মিষ্টি তৈরি কাজ করছিলেন। এ সময় হোটেল মালিক আবু তালেব মিয়া তাকে ডেকে নেয়। হোটেলের ফ্রিজের তার ইঁদুরে কাটার বিষয়টি না জানানোর কারণে ভবেশ চন্দ্রকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরই একপর্যায়ে আবু তালেব মিয়া উত্তেজিত হয়ে তাকে গাছের খরি দিয়ে মারধরসহ কিলঘুসি দেয়। এসময় ভবেশ চন্দ্রের দাঁত ভেঙে ও শারীরিকভাবে যখমে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভবেশ চন্দ্রের ছেলে সুবির চন্দ্র সরকার বলেন, বাবাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনার খবর পেয়ে বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত সহায়তা পাবার জন্য থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আবু তালেব মিয়ার উপর্যুক্ত বিচার দাবি করছি। অভিযুক্ত আবু তালেব মিয়া বলেন, আমার দোকানের ফ্রিজের তার ইঁদুরে কাটার ব্যাপারে ভবেশ চন্দ্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় নিজেই উল্টে পড়ে জখম হয়েছেন। হাসপাতালে তার খোঁজখবর নেওয়াসহ চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপন বলেন, একজন হোটেল শ্রমিককে মারধর করা মোটেও কাম্য নয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকার জানান, হোটেল শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।