1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
মিঠাপুকুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি, ভেঙে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

মিঠাপুকুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি, ভেঙে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ২১০ জন দেখেছেন

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান এর বেপরোয়া সিন্ধান্তে নানান হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান। দুই শিক্ষকের সৃষ্ট বিবাদের কারণে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। আর এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের উপর। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কামনা করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়। গ্রামের নামানুসারে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সরকারের আইসিটি বিভাগের আওতায় বিদ্যালয়টি পাইলটিং প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স কর্ণার সহ কম্পিউটার ল্যাবে যুগোপযোগী শিক্ষা অর্জন করার সুযোগ পেয়ে আসছে। এছাড়াও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জেলার রানারআপ এবং উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা ও বিতর্কে রয়েছে চ্যম্পিয়ন হওয়ার একাধিক অর্জন। সবমিলে উপজেলার অন্যতম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিন দিন যেন সেই সুনাম হারাতে বসেছে। এর কারণ হিসেবে সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামানের হয়রানি ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের
মানসিকভাবে চাপে রাখার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী।

স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী ও সাবেক ছাত্ররা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আসাদুজ্জামান গত ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামানকে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এমন ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করছেন। কিন্তু তিনি যা করেছেন সেটা বিদ্যালয়ের জন্য করেছেন। যার প্রমাণ একাডেমিক বিল্ডিং, কম্পিউটার ল্যাব, রোবটিক্স কর্ণার, হলরুম, অফিস কক্ষ ও শিক্ষক মিলনায়তনসহ একাধিক উন্নয়নচিত্র। অপরদিকে শিক্ষক আসাদুজ্জামান নিজের স্বার্থ হাসিলে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। এমনকি সাবেক এমপি জাকির হোসেন সরকার নির্বাচন করাকালীন তাকে তার খামারের ডিম ও মুরগী সাপ্লাই দিতেন তিনি। মূলত শিক্ষক আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ডোনার ও একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে কাজ করেছেন। সেটা তার এলাকার অনেকেই জানেন। এখন প্রধান শিক্ষককে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করাটা ঠিক হচ্ছেনা। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে শক্ত হাতেই সবকিছু মোকাবেলা করবো। কোন শিক্ষকের কারণে আমরা স্কুলের ক্ষতি হতে দেবোনা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান জানান, সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান পূর্বের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। নিয়োগের পর সেইসময় তাকে ৪ বার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এমনকি আপিল এ্যান্ড আর্বিটেশন বোর্ডে তাকে চুড়ান্ত বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন। এরপর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে, ওই সময় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে কেউ না থাকায় তার স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ স্থগিত হয়। আমি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পেয়ে তাকে পূর্নবহাল করি। কিন্তু সে প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াতে থাকেন। এ কারণে ম্যানেজিং কমিটি তাকে আবারো সাময়িক বরখাস্ত করেন। প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়ে নিজেরমতো করে বিএড করেন। পরে বিল চাইলে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। কারণ ম্যানেজিং কমিটি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে বিএড করার নিয়ম থাকলেও তিনি তা করেননি। পরবর্তীতে ইউএনও স্যারের সুপারিশে তাকে বিএড বিলের জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু রেজুলেশন না থাকায় তার বিল আটকে যায়। তিনি রেজুলেশন নেননি আমি এখন রেজুলেশন কিভাবে দেই। তার এমন নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমে সম্মতি না দেয়ায় ওই শিক্ষক একের পর এক সাজানো অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন। ফলে মানসিক চাপে ঠিকমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষাথীদের উপর। আমি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।

অভিযুক্ত শিক্ষক আসাদুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি যে অভিযোগ দিয়েছি তার সবকিছুর প্রমাণ আছে। আমাকে চুড়ান্ত বহিষ্কার থেকে পূর্ণবহালে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কোন সহযোগিতা নাই। কালকে তদন্ত আছে আপনিও আসেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মমিন মন্ডল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার তদন্ত আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ এবং লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়। এমন কার্যক্রমের সাথে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )