


সে দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ২৩ রমজান শনিবার। ওইদিন রাতে অনন্তপুর গ্রামে মুক্তি বাহীনিরা অবস্থান করেছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানি বাহীনি ও তার দোসররা সেখানে স্বশস্ত্র অবস্থান নেয়। শেষরাতে রোজাদার মানুষ সাহরি খেয়ে কেউ ঘুমিয়েছে, কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউবা ফজরের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে চারদিক থেকে শুরু হয় বৃষ্টির মত গুলি আর মর্টার শেলের গোলাবর্ষণ। রোজাদার ও ঘুমন্ত মানুষজন জেগে উঠে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। বাগুয়া অনন্তপুর, রামখানা, নয়াদাড়া, মন্ডলের হাট, নীলকণ্ঠ, দাঁগারকুটি গ্রামসহ আরও অন্য গ্রামের মানুষ কিছু বুঝে উঠার আগেই পাকিস্তানি বাহীনি ও তাদের এদেশী দোসর, রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস বাহিনি মিলে গ্রামের ঘর-বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে তারা চালাতে থাকে লুটপাট ও নির্যাতন। মুহুর্তেই গ্রামগুলো পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে।
পরদিন এলাকাবাসী ৬৯৭জন নিরীহ গ্রামবাসীর ক্ষত বিক্ষত মরদেহ সংগ্রহ করে গণকবর দেয়। গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভটি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানান্তরিত দাঁগারকুটি বধ্যভূমি স্মৃতি সৌধটি এখন দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে। পরে শহীদদের স্মরণে নতুন অনন্তপুর বাজারের পশ্চিম পাশে নতুন করে নির্মাণ করা হয় আরও একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে দিবস পালন করে আসছেন উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে সকালে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। পরে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস.এম মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি সরকার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান। ফারুক আহমেদ বাতেনের সঞ্চালনায় অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জার রহমান, গোলাম মোস্তফা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, এনসিপি নেতা শাখওয়াত হোসেন প্রমুখ।