


অধিক পরিমাণে পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ বেগুনি, হলুদ ও সবুজ রংয়ের ফুলকপি চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়ে এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজনে রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ম্যাড়েয়া এলাকার কৃষকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে হলুদ জাতের কপি চাষ করে স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ার পরামর্শ দেন কৃষি কর্মকর্তারা। মাঠ দিবসে এলাকার শতাধিক প্রান্তিক চাষ অংশ গ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: রাজিব হুসাইন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, দিনাজপুর খামারবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু রেজা মো: আসাদুজ্জামান।
এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারন অফিসার আলি রুবেল, চন্ডিপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আফছার আলী সরকার, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান, শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ও মহুয়া সুলতানা অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রমুখ। মাঠ দিবসে অধিক পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ ও স্বল্প সময়ের ফসল হিসেবে হলুদ কপি চাষ করে পারিবারিক সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সংসারেও বাড়তি আয় করা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেন কৃষি কর্মকর্তারা। মাঠ দিবসে বক্তব্য রাখেন, দোয়ানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আজাহার আলী। তিনি বলেন,আমার বিঘা প্রতি ৪০-৫০ হাজার খরচ হয়েছে। ৬০ দিন পর বিক্রি করেছি দেড় লাখ টাকা। হলুদ কপিতে স্প্রে কম করতে, কিন্ত স্প্রে বেশি করতে হয়। সাদা কপিতে রোগ বালাই দেখা দেয়। জমি থেকে কেটে এই রঙ্গিণ কপি ১ সপ্তাহ বেশি রাখা যায়। কিন্তু সাদা কপি দুই একদিন পর ফুল গজিয়ে ওঠে। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হয়।
মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি দিনাজপুর খামারবাড়ী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, রঙ্গিন ফুলকপি বর্তমানে একটি সম্ভবনাময় ও পু্ষ্িটগুণসমৃদ্ধ সবজি হিসেবে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সাদা ফুলকপির পাশাপাশি বেগুনি, হলুদ ও সবুজ রংয়ের ফুলকপিতে রয়েছে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাজিব হুসাইন জানান, এবছর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে রঙ্গিন ফুলকপি ৬ একর জমিতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। ফলন সন্তোষজনক, তেমনি বাজারে চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি। এতে কৃষকরা স্বল্প জমিতেই বেশি লাভবান। রঙ্গিণ ফুলকপি চাষে রোগবালাই তুলনামূলক কম এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে উন্নত জাতের বীজ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে ও কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী রঙ্গিণ ফুলকপি চাষে এগিয়ে আসুক। একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে পুষ্টি নিরাপত্তা ও সবজি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে।