


গত দেড় বছরে যারা ইনসাফ করতে পারেনি, আগামীতেও তারা করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। মহাসচিব বলেন, দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে দেখলাম বাগেরহাটের এক ছাত্রের ঘটনা। সে ছাত্রলীগ করে এটাই তার দোষ। তাকে জেলে রাখা হয়েছে। তাই বলে তাকে বিচারের আগেই দুই বছর জেলে আটকে রাখবেন? আপনিতো বিচারের আগেই শাস্তি দিয়ে দিচ্ছেন। এটা কোনো ইনসাফ হতে পারে না। গত বুধবার সন্ধা ৭ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের চাতালে লাঙ্গল মার্কার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ওই ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী তার স্বামীকে বার-বার জামিন করান। আর আপনারা তাকে বার-বার জেলে ঢোকান। একবার তার স্ত্রী জেলগেটে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদেন আর বলেন, জেলে আর যেতে দিবো না। অনেক কান্নাকাটির পরও তার স্বামীকে আবারও জেলে ঢোকানো হয়েছে। সেই দুঃখ, কষ্টে সে মেয়েটি নিজের বাচ্চাকে আগে মেরেছে ফেলেছেন এবং পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। এরপরে প্যারোলে আবেদন করলে প্রশাসন জেল থেকেও বের হতে দেননি ছাত্রলীগ ওই নেতাকে। শেষে স্ত্রী শিশু সন্তানের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় জেলগেটে। নিজের সন্তানকে সে প্রথমবার দেখলেন তাও আবার মৃত অবস্থায়। কি নির্মম, কি নিষ্ঠুর। কোথায় আছে আইনের শাসন আর কোথায় আছে ইনসাফ। আজকে যারা বড়বড় কথা বলছেন, কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করবেন। এই দেড় বছরে তো দেখলাম না আপনারা কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করলেন। ইনসাফতো করলেন না।
ইনসাফ যদি এখন না করেন তাহলে সামনে কিভাবে করবেন। আমরা দ্যার্থহীন কন্ঠে বলতে চাই- জাতীয় পার্টি শান্তিতে বিশ্বাসী দল। জাতীয় পার্টি শান্তিতে আছে এবং এই দেশকে শান্তিতে রাখতে পারবে ইন্শ আল্লাহ। জাপার মহাসচিব আরও বলেন, আপনারা ৩২ নম্বর বাড়ি বার-বার ভেঙ্গে ফেললেন। যে ৩২ নাম্বার বাড়ি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বঙ্গবন্ধু মারা গেছেন ১৯৭৫ সালে। আর আওয়ামী লীগের এই আমল শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ৩৩ বছর পরে এসে শুরু হয়েছে। তাহলে ৩৩ বছর আগে যিনি মারা গেছেন, ৩৩ বছর পরে এসে সেই দায়ে তার মূর্তি ভাঙ্গলেন।
ছি-ছি-ছি। তার মূর্তিতে প্রসার করলেন। এইটা কি আপনাদের ইনসাফ? অথচ বড়বড় করে বলে বেড়ান যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, আপনারাতো ৩২ নম্বর ভাঙ্গার আন্দোলন করেন নাই। আন্দোলন ছিলো দেশের জন্য, কোটা বিরোধী। ৩২ নম্বর ভাঙ্গার জন্য কে আপনাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। হু। মব করে আজকে ৩২ নম্বর ভাংছেন। কালকে প্রথম আলো পত্রিকার অফিসে আগুন দিচ্ছেন।
পরশু ডেইলি স্টারের অফিসে আগুন দিচ্ছেন। থামছে না। ভাংচুর থামছে না, আগুন থামছে না। কোর্ট জিম্মি করেছেন। ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওই ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সভাপতি ইন্জিনিয়ার এটিএম মাহবুব আলম শাহীন। এ সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাপা নেতা ওয়াহিদুজ্জামান সরকার বাদশা, জাতীয় পার্টির উপজেলা সিনিয়র সহসভাপতি মো আনছার আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক মো আবদুল মান্নান মন্ডল, রামজীবন ইউনিয়ন সভাপতি এটিএম এনামুল হক মন্টু, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি মো. রেজাউল হক রেজা, বেলকা ইউনিয়ন সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রানা, জাপা নেতা মুন্সি আমিনুল ইসলাম সাজু ও জাতীয় যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি মো. সাইদুর রহমানসহ অনেকে।