


রংপুর নগরীতে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি মসলা কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে পরিচালিত ওই কারখানায় গোল মরিচে ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত রং, খয়ের ও ময়দা মিশিয়ে ওজন বাড়ানো হচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের নাজিরদহ গফুর টারী এলাকায় একটি অবৈধ মসলা উৎপাদন কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে মসলা উৎপাদন এবং অনুমোদনবিহীনভাবে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল জব্দ করা হয় এবং শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়,একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোল মরিচে ওজন বৃদ্ধি করার জন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যালযুক্ত রং, খয়ের ও ময়দা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব ভেজাল উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভেজাল ও অবৈধ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা প্রশাসন। তাদেএ এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।