দিনাজপুরের হাকিমপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেল ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব পালন না করে চেয়ারম্যান অফিসে খোশ গল্পে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। এদিকে চাল ওজনে কম ও একই ব্যাক্তিকে ২৯ কেজি চাল ওঠাতে দেখা গেছে। সেই চাল আবার পরিষদের বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে তিন সংবাদিককে লাঞ্জিত করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সকাল ১০ টা থেকে হাকিমপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হয়। ৩ নং আলীহাট ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এমন খবর আসে সংবাদিকের কাছে। খবর পেয়ে ৭১ টেলিভিশন ও সোনালী নিউজের সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম, সমকালের সাংবাদিক মুসা মিয়া ও দৈনিক যায়যায় দিনের সাংবাদিক রমেন বসাক দুপুর ১২ টায় ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যায়। সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যেক সুবিধা ভোগীতে অন্তত ২শ গ্রাম করে কম চাল দিতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় ডিজিটাল ওজন স্কেলে ওপর কম পক্ষে ৫০০ গ্রাম করে চাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতেও দেখা যায়।
বিষয়টি জানতে চাইলে ওজন স্কেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দিলদার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন সাংবাদিকরা দেখার কে। অকথ্য গালিগালাজ ও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এবং জীবনে কত সাংবাদিকে খেয়েছি বলে হুমকি দেন। একজন ব্যাক্তিকে একাধিকবার টোকেন দিয়ে চাল উঠাতে দেখা গেছে। সেই চাল ইউনিয়ন পরিষদের পাশে^ অস্থায়ী দোকানে ১০ কেজি চাল ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায় । অভিযোগ আছে কিছু অসাধু ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে টোকেন বিক্রি বিক্রি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দিলদার হোসেন সহ কিছু অসাধু সদস্য মোটা অংকের টাকার বিনময়ে টোকের বিক্রি করেছেন। ওই টোকনের চাল সংগ্রহ করে অনেকে বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা করা হয়নি। অনেকের নাম তালিকায় আছে কিন্তু তারা জানানো হয়নি। সেই টোকেনগুলি বিক্রি করা হয়েছে। তদন্ত করলে ব্যাপক দূর্নীতি বেরিয়ে আসবে।
জাহিদ হাসান নামের ১৪ বছরের এক কিশোরকে ১০ কেজি করে ২৮০ টাকা দরে ৪ বার চাল বিক্রি করতে দেখা যায়। ৩ বার চাল তুলে বিক্রি করেছে স্বীকার করে ওই কিশৈার কৌশলে কেটে পড়ে। এরপর প্যানেল চেয়ারম্যনের কক্ষে গেলে ট্যাগ অফিসারকে চেয়ারম্যনের সাথে খোশ গল্প করতে দেখা যায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক তাঁকে অবগত করলে তিনি ওই ইউপি সদস্যকে ডেকে আপোষ করার প্রস্তাব দেন।
ওজনে কম ও কাউকে ৩ টি টোকেনের বিনিময়ে ২৯ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি কিছুক্ষণের জন্য চেয়ার্যান অফিসে বসে ছিলাম। এরমধ্যে কি করেছে আমার জানা নেই। কাউকে ১০ কেজির বেশী দেওয়া বা ওজনে কম দেওয়ার কথা নয়।
এ বিষয়ে ৩ নং আলীহাট ইউনিয়ন পরিষদ এর প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন জানান, ভূল করে এমন হয়েছে। ঘুষ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নিউজটি না করার প্রস্তাব দেন। হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণে কেউ দূর্ণীতি করলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।