


নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহরের তীব্র যানজট সমস্যা নিরসনে প্রধান প্রধান সড়কের প্রবেশমুখে স্থায়ী ডিভাইডার (বিভাজক) বসানো হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়ক (দিনাজপুর রোড) থেকে ওই স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। অবশ্যই এর আগে গত বছরের আগষ্ট- সেপ্টেম্বর মাসে ওই পয়েন্টেগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে অস্থায়ী ডিভাইডার বসানো হয়েছিল। এতে শহরের যানজট এড়িয়ে যানবাহনগুলো কিছুটা হলে সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে চলাচল করেছে। অস্থায়ী ডিভাইডারের সুফল থেকে এবার স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে।
উত্তর জনপদের একটি শিল্প ও বাণিজ্য প্রধান পৌর শহর নীলফামারীর সৈয়দপুর। সৈয়দপুর পৌরসভার আয়তন ৩৪.৪২ বর্গকিলোমিটার। এ শহরের তিন ভাগের দুই ভাগ জায়গা জমিই হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের। আর রেলওয়ের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জমিতে যে যেভাবে পেরেছেন সুযোগ বুঝে রাতারাতি বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প ,কল-কারখানাসহ নানা অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন। ফলে এ শহরটি কখনোই পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেনি। শিল্প ও বাণিজ্য প্রধান এ শহরটিতে নানা রকম ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে আশেপাশের কয়েকটি জেলা উপজেলা থেকে মানুষ এখানে আসেন প্রতিদিন। আর একারণে ওই সব জেলা উপজেলার বিভিন্ন রকম যানবাহন ভীড় করে এখানে। কিন্তু উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও আশেপপাশের জেলা উপজেলা থেকে আগত মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের তুলনায় শহরের সড়কের সংখ্যা ও প্রশস্থতা একেবারে অপ্রতুল।
সেই সঙ্গে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিকদের সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা কৌশল। ফলে নানাবিধ কারণে ঘিঞ্জি এ শহরে নিত্যদিন তীব্র যানজট লেগেই থাকে। আর শহরবাসীকে অসহনীয় যানজটের কবলে পড়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অফিস আদালতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত। এতে করে শহরের মানুষের কর্মঘন্টা অপচয় হওয়াসহ চরম বিপাকে পড়তে হয়। শহরের মারাত্মক যানজট সমস্যা সমাধানে সৈয়দপুর পৌরসভা কৃর্তপক্ষ ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষে একাধিকবার উদ্যোগ দিলেও তার কোন ফলপ্রসূ সমাধান হচ্ছিল না। এ অবস্থায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ শহরের তীব্র যানজট নিরসনে বিকল্প পথ খুঁজছিলেন। অবশেষে গত বছরের শেষে দিকে তৎকালীণ পুলিশ সুপারের উদ্যোগে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে সৈয়দপুরে শহরের কয়েকটি পয়েন্টে সড়কে বসানো হয় অস্থায়ী ডিভাইডার।
নীলফামারী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) একেএম ওহিদুন্নবী’র সার্বিক তদারকি ও ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. মাহফুজার আলম এই অস্থায়ী ডিভাইডার বসানো উদ্যোগের বাস্তবায়ন করেন। আর এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে শহরের যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে। ডিভাইডার বসানোর কারণে শহরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রিকশা, রিকশা ভ্যান, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাগুলো সহ সকল প্রকার যানবাহন সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে চলাচল করছে। ফলে আগের তুলনায় যানজট অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। এতে করে শহরবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এ অবস্থায় সড়কে ডিভাইডারের সফলতা আঁচ করে পেরে এবারে অস্থায়ী ডিভাইডার সরিয়ে সেখানে স্থায়ী ডিভাইডার বসানো হচ্ছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ওই স্থায়ী ডিভাইডার বসানোর জন্য সড়কে গর্ত খননের কাজ শুরু হয়। আর একটি স্টিল কোম্পানির সৌজন্যে ওই সড়ক ডিভাইডারগুলো বসানো হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে (দিনাজপুর রোড) নাটোর দইঘরের সামনে প্রথম স্টিলের ওই ডিভাইডারগুলো বসানো হয়।
গতকাল মঙ্গলবার শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে নাটোর দই ঘরের সামনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জুলফিকার স্টিল নামের একটি নতুন রড কোম্পানির সার্বিক তত্বাবধানে সেখানে অস্থায়ী ডিভাইডার সরিয়ে স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপনের কাজ চলছে। সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. মাহফুজার আলম উপস্থিত থেকে ডিভাইডার স্থাপন কাজ তদারকি করছেন। এ সময় জুলফিকার স্টিলের মার্কেটিং ব্যবস্থাপক মো. নাদিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. মাহফুজার আলম বলেন, আমাদের স্বল্প সংখ্যক লোকবল দিয়ে ঘিঞ্জি এ শহরের তীব্র যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছিলো। পরবর্তীতে শহরের যানজট নিরসনে কয়েকটি পয়েন্টে কংক্রিটের খুঁটিতে বাঁশ বেঁধে অস্থায়ী ডিভাইডার বসানো হয়। এতে কিছুুটা হলেও যানজট সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে।
তাই সড়কের বসানো অস্থায়ী ডিভাইডারের সুফলের কারণে এবারে স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর কর্তৃক ও সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে পরামর্শে এই কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আশা করেন এতে শহরের যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। আর সড়কগুলোতে সব রকম যানবাহনসহ শহরের মানুষজনও সড়কে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। তিনি এ জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।