1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পীরগঞ্জে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুর্নীতি অনিয়ম প্রজেক্ট ম্যানেজারকে অব্যাহতি | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

পীরগঞ্জে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুর্নীতি অনিয়ম প্রজেক্ট ম্যানেজারকে অব্যাহতি

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৭৯০ জন দেখেছেন
প্রজেক্ট ম্যানেজারকে অব্যাহতি

রংপুরের পীরগঞ্জে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একাধিক অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় গত সপ্তাহে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।  উল্লেখ্য,দেশের ৩৩১টি পৌরসভার মধ্যে পীরগঞ্জসহ ১৭টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি কর্পোরেশনের ৪৫টি পার্টনারশীপ এরিয়ায় স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের জনগোষ্টির মানসম্পন্ন এবং ন্যায় সংগত স্বাস্থ্যসেবা স্বল্পমূল্যে নিশ্চিত করতে আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পাধীন দ্বিতীয় পর্যায় পীরগঞ্জ পৌরসভায় বাস্তবায়নে ও উন্নয়ন সংস্থার পরিচালনায় বিগত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কার্যক্রম শুরু হয়।

 

প্রকল্প কার্যক্রমের শুরু থেকেই উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) ওয়াজেদ আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্য,স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বিতরণ,প্রয়োজনীয় ডাক্তারসহ জনবল সংকট,ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ,জনবল কাঠামোতে পদশুন্য থাকলেও ভুয়া ভাউচারে বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। পদাধিকার বলে প্রজেক্টে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা প্রোগ্রাম অফিসার থাকায় বর্ণিত অভিযোগ উপস্থাপন করে মৌখিকভাবে একাধিকবার পিএমকে সতর্ক করলেও তিনি ”ডন্ট কেয়ার” ভাব দেখিয়ে ইচ্ছেমতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন।

 

ইতিমধ্য প্রজেক্টের কার্যক্রমে পৌরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে পৌরসভা ও উন্নয়ন সংস্থার সাথে টানাপোড়ন শুরু হয়। টানা ৩ মাস ধরে সংস্থায় কর্মরদের বেতন-ভাতায় স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রজেক্টের প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুর রহিম। চলতি মাসের ১৪ তারিখে পৌর সভার প্যাডে প্রশা/২০২৪/২১৮ স্বারকে প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বরাবর দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী পিএম-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। এদিকে প্রজেক্ট ম্যানেজার পাল্টা পিডি’র বরাবরে পৌর নির্বাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। পৌর নির্বাহী কর্তৃক লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ইতিপূর্বের সকল প্রকার বিল ভাউচারের কোন প্রকার যাচাই-বাচাই ছাড়াই স্বাক্ষর করার কথা বলেছেন। বর্তমানে প্রকল্পের সেবার মান উন্নতির চেয়ে ব্যক্তি পিএম এর উন্নতি ও দুর্নীতি সকলের নখদর্পনে।

 

এছাড়াও দুই লাখ টাকার বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেটধারী প্যারামেডিক নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা সেবা, প্রকল্প ও জনগনের স্বাস্থ্য সেবায়বড় ক্ষতি সম্ভাবনা, শুরুতেই পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কথা বলে বিনা নোটিশে, বিনা বেতনে, এক দিনেই ২জন আয়াকে চাকুরিচ্যুত,অর্থের বিনিময়ে অন্যদের নিয়োগ, চাকুরিচ্যুত পুণর্বহালে প্রত্যকের কাছে তিরিশ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়া,পারিবারিক স্বাস্থ্য সেবা কার্ড (রেড কার্ড) বিতরনের আগে জরিপসহ যাচাই-বাচাইয়ে পর্যাপ্ত কর্মী,জরিপে নিয়োজিতদের পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্ধ থাকার পরেও কর্মীদের কোন টাকা না দিয়ে ফাঁকা সীটে স্বাক্ষর নিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎসহ তড়িঘড়ি রেড কার্ড ইস্যু, গাইনি ডাক্তার ও ক্লিনিক্যাল ম্যানেজার পদে মোটা অংকের উৎকোচ,এ প্রসঙ্গে নিয়োগকৃত ডাক্তার ও ক্লিনিক্যাল ম্যানেজারের স্বীকারোক্তি, ক্লিনিক্যাল ম্যানেজার অব্যাহতির এক মাস পর পুণরায় ফিরে আসলে অনুপস্থিত মাসের হাজিরাতে স্বাক্ষর নিয়ে উত্তোলিত বেতন আত্মসাৎ, ডাক্তার আনিকা মে/২০২৪ মাসেচাকুরী ছেড়ে দিলেও জুন/২৪ পর্যন্ত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে জুন-২৪ মাসের বেতন পিএম পকেটস্থ করা, শুন্যপদে ডাক্তারসহ যে কোন স্টাফ যোগ দিলে অগ্রীম হাজিরা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্যদের স্টাফদের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে উৎকোচ গ্রহন, খারাপ আচরণ, মানসিক হেনস্থাসহ বেতন বই থেকে নাম বাদ দেয়ার হুমকি ধামকি, নিয়ম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস হলেও তিনি কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজ মর্জিতে কোন কোন ক্ষেত্রে ২ মাস কিংবা ৩ মাস করেন।

 

এ বিষয়ে প্রজেক্টের ডিপিডি ডাঃ শারমিন মিজান ও কর্নেলের রেফারেন্স তোয়াক্কা না করা,স্থানীয় কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম,প্রতিষ্ঠানের মূল্য তালিকার সাথে বিল-ভাউচারের মিল না থাকা, বিভিন্ন দ্রবাদি ও ওষুধ ক্রয়ের বিল ভাউচার অন্যান্য সংস্থার সাথে অকল্পনীয় ব্যবধান, মিটিং ও প্রশিক্ষণ ভাতা বঞ্চিত বরাবর স্টাফরা,মেয়র, কাউন্সিলরসহ অনেকের স্বাক্ষর জাল করে বিল ভাতা উত্তোলন, স্টাফ না হয়েও প্রশিক্ষনের তালিকায় স্ত্রীর নাম,উৎকোচে মনোনিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষনে পাঠানো, ৩ বার কারণ দর্শানো নোটিশে চাকুরিচ্যুতের বিধান থাকলেও সুপারভাইজার, কেন্দ্র ম্যানেজার পদে ৪ বার কারণ দর্শানো নোটিশ প্রাপ্তদের উৎকোচে চাকুরিতে বহাল,স্টাফদের সাথে অসাদাচরণ,শোকজ দিয়ে চাকুরিচ্যুতির ভয়, হুমকিপ্রদানসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনীত হয়। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্টাফ জানান, পিএম যা ইচ্ছা তাই করেন।

 

প্রজেক্টে উন্নয়ন সংস্থা থেকে ডাক্তার, কাউন্সিলর, রিসিভশনিষ্ট, প্যারামেডিক, নার্স, গার্ড, ক্লিনিক এইড, এফডব্লিউভি, এফডব্লিউএ, সার্ভিস প্রমোটর, প্রজেক্ট ম্যানেজার, ম্যানেজার অর্থ ও প্রশাসন, এমআইএস, এফপিসি, অফিস সহকারি, ড্রাইভারসহ ৬৮টি পদ রয়েছে। ডাক্টারদের ৯টি পদে শিশু বিশেষজ্ঞ শুরু থেকেই নাই, জুন/২৪ মাস থেকে গাইনী বিশেষজ্ঞ নাই। কেউ চাকুরী ছেড়ে গেলেও অগ্রীম হাজিরা খাতায় কয়েকমাসের স্বাক্ষর গ্রহন করে বেতন-বিল উত্তোলন করা হয়। রোগির ফি ৫০ টাকা নিলেও নরমাল ডেলিভারি চার্জ ১২০০ টাকা নেয়ার বিধান থাকলেও ৪/৫ হাজার টাকা আদায় করে ১৫’শ টাকা ভাউচার করা হয়েছে। প্রজেক্টের স্টাফ না হয়েও প্রজেক্ট ম্যানেজারের স্ত্রী জুলিয়াস আক্তার জুই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং-এ অংশ গ্রহন করে থাকেন। কর্মশালা ও সেমিনারে মেয়র কাউন্সিলরদের বরাদ্দ ২ হাজার এর স্থলে ১ হাজার টাকা প্রদান, হলরুম ফ্রি হলেও তা ভাড়া দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগি মদনখালি গ্রামের সালমা বেগমসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ডেলিভারি রোগি জানান, আমার নিকট থেকে নরমাল ডেলিভারিতে ৪ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। পিএম ওয়াজেদ আলী প্রামানিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রজেক্টের আর্থিক বিষয় দেখাশুনা করেন ম্যানেজার প্রশাসন ও অর্থ বেলাল হোসেন। স্টাফও ওনার দায়িত্বে।

 

রোগির নিকট থেকে টাকা আদায় করেন রিসিভশনিষ্ট। ৩জন রিসিভশনিষ্ট রয়েছে। শুরুতে উন্নয়ন সংস্থা ৬৮জনের স্থলে ৫০/৫২জন স্টাফ নিয়োগ করেন। অবশিষ্ট পদ সাবেক মেয়র ও পৌর নির্বাহী তাদের পছন্দের লোক দিয়েছে। পৌর নির্বাহীর নিয়োগকৃত ক্লিনিক এইডদের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক। নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের ইনডোর তিন তলায়,সেখানে বিকেল ৫টার পর পুরুষ মানুষ প্রবেশ নিষেধ থাকলেও পদাধিকার বলে প্রোগ্রাম অফিসার (পৌর নির্বাহী)মাঝে মধ্যই রাতে তিন তলায় যাতায়াত করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত পনে ৯টার দিকে তিন তলায় উঠে জনৈক ক্লিনিক এইডের সাথে দরজা আটকিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। ঘটনাটি আয়া, গার্ড জেনে যায়। রাত ১০ টায় উনি চলে যান। এ বিষয়ে ক্লিনিক ম্যানেজার ডাঃ মোহতারিমা জিন্নাত মৌসুমি ২৪ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করে। ২৫ সেপ্টেম্বর অপর ক্লিনিক এইড হঠাৎ রাত ১২ টার পর চলে যায়। গোপন তথ্য পাওয়া গেছে,ওই ক্লিনিক এইড পৌর নির্বাহীর সাথে বাহিরে যান। ওই ক্লিনিক এইডকে ১৫দিনের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পৌর নির্বাহী এবং এখানেই দ্বন্দ্বের শুরু। বিষয়গুলো উন্নয়ন সংস্থার মুখপাত্র জুবায়ের হোসেনকে লিখিতভাবে জানানো হলে বেতন-বিলে পৌর নির্বাহীর স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তায় বিষয়গুলো ওভারলুক করার পরামর্শ দেয়।

 

এছাড়াও পৌর নির্বাহীর সুপারিশে কাউন্সিলর পদে আগষ্টে চাকুরীকে যোগদান করা রিপা খাতুনের নিকট ৩ লাখ এবং রিসিভশনিষ্ট জুই মনির নিকট ২০ হাজার সিকিউরিটি মানি গ্রহনের তথ্য পাওয়া যায়। রিপা ও জুই যোগদানপত্রে ভুল করে তারা সিকিউরিটি মানির কথা লিপিবদ্ধ করেন। ক্লিনিক ম্যানেজার ডাঃ মোহতারিমা জিন্নাত মৌসুমি স্বাক্ষরিত পৌর নির্বাহীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের বিষয়ের ঘটনার তারিখ উল্লেখসহ পিএম-এর কাছে লিখিত কপি, সিকিউরিটি মানির কথা উল্লেখসহ রিপা ও জুই-এর যোগদানপত্রে দেখান। অবশ্য তিনি এসব ডকুমেন্টের কপি সংস্থার ইস্যুতে সাংবাদিকদের হাতে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ক্লিনিক ম্যানেজার ডাঃ মোহতারিমা জিন্নাত মৌসুমি স্বাক্ষরিত পৌর নির্বাহীর অনৈতিক কাজের বিষয়ে ২৩ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ঘটনা উল্লেখ করে সংস্থার স্বার্থে পিএম বরাবর লিখিত অভিযোগের কথা অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে প্রকাশ করলেও পরে মুঠোফোনে জানান, ঘটনার কয়েকদিন আগে চাকুরী ইস্তেফা দিয়েছি, জোর করেই পিএম ওই কাগজে আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। গত সপ্তাহে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে এসব তথ্য প্রমান হওয়ায় পিএম কে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )