


কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারিভাবে প্রতিবছর সারা দেশের প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় এর সুষম বণ্টন নিয়ে ছিল নানা অভিযোগ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় বিবেচনায় অকৃষক থেকে ভূমিহীনরাও প্রণোদনার তালিকাভুক্ত হন। বাদ পড়েন প্রকৃত প্রান্তিক চাষিরা। এ নিয়ে প্রকৃত চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই চিত্রই পাল্টে দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তার কঠোর নির্দেশনায় প্রকৃত কৃষকের হাতেই তুলে দেয়া হচ্ছে সরকারি প্রণোদনা।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসে ভীড় করছেন কৃষকরা। তাদের তালিকা দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রণোদণা হিসেবে ধান বীজ তুলে দেয়া হচ্ছে। একাজে সহযোগিতা করছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। এতে কৃষকেরা খুশি মনেই প্রণোদনা গ্রহণ করে বাড়ি ফিরছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা ও ঘাঘট নদীবেষ্টিত পীরগাছা উপজেলা। ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটিতে দুটি ইউনিয়ন তিস্তা নদী ভাঙন কবলিত। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ছাড়া বাকি ছয় মাস দুই ইউনিয়নে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন রবিশস্যের চাষাবাদ হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ উপজেলায় রবি মৌসুমে চাষ হয় সরিষা, গম, ভুট্টা, মসুর, মুগ-খেসারি, পেঁয়াজ, সূর্যমুখীর। এ ছাড়া খরিফ-১ পাট ও আউশ ধান, খরিফ-২ এ রোপা আমন ধান। প্রতিবছর এসব ফসল উৎপাদনে উপজেলার ১৩ হাজার প্রান্তিক কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ দেওয়ার কথা বলা হলেও এতদিনে এসবের কিছুই পেত না প্রকৃত চাষিরা। প্রকৃত চাষিদের বাদ দিয়ে অকৃষকদের তালিকাভুক্ত করায় প্রণোদনার সার ও বীজ কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ছিল। কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রণোদনার সার-বীজ বিতরণে প্রকৃত কৃষকের তালিকা করার কথা সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু তা না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতা ও তাদের পছন্দের লোকদের নিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া কৃষকের উপস্থিতি ছাড়াই প্রণোদনা বিতরণ করা হত। তবে এখন কৃষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রণোদনা বিতরণের নতুন পদ্ধতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, কৃষি অফিসারের নির্দেশনায় প্রকৃত কৃষকদের হাতেই প্রণোদনা তুলে দেয়া হচ্ছে। এতে আগের মতো অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা হচ্ছে না। আরেক কৃষক আজিজার রহমান বলেন, এবার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়িবাড়ি গিয়ে প্রণোদনার তালিকা করেছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা তালিকাভূক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামিউল ইসলাম বলেন, আগের তালিকা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। তবে এখন যাচাইবাছাই করেই প্রকৃত কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে প্রকৃত কৃষকদের হাতেই প্রণোদনা তুলে দেয়ার চেষ্টা করেছি। আগে তালিকা তৈরিতে কিছু সমস্যা থাকলেও বর্তমানে প্রকৃত কৃষককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, প্রকৃত কৃষকরাই যাতে প্রণোদনা পায় সব উপজেলায় সেই নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে পীরগাছা উপজেলা ভাল করছে। সঠিক ভাবে প্রণোদনা পেলে উৎপাদন বাড়বে। এতে কৃষকরাও লাভবান হবেন।