
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক নারীর উপর বর্বর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে হত্যা চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়েছে।
স্থানীয় হাতীবান্ধা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবেয়া বেগম (৫০), পিতা মৃত আব্দুল আজিজ, বসবাস করেন সিংগীমারী এলাকার আলিমের ডাঙ্গায়। তিনি দাবি করেন, তার ও তার দুই মেয়ের নামে থাকা মোট ৮১ দশমিক ৫০ শতক জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় ২৪ জুলাই ২০২৫ তারিখ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চারা নষ্ট করতে থাকে।
আবেয়া বেগম বলেন, “আমি তাদের বাধা দিতে গেলে তারা দলবদ্ধ হয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমার মাথার চুল টেনে ধরে কাপড় ছিঁড়ে ফেলে, শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এমনকি একজন কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং আরেকজন দুই হাতে গলা চেপে ধরে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে।”
তিনি আরও জানান, তার চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫১৮৩।
অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তারা হলেন: মোঃ মফিজ উদ্দিন (৫০), মোঃ আইয়ুব আলী (২০), মোঃ কবির (২২), মোঃ শাহিনুর (৩৫), মোঃ মোর্শেদ (৪০), ও মোছাঃ ফজিলা (৪৫)। এদের মধ্যে কেউ আবেয়া বেগমের স্বজন নন বলে জানান তিনি। প্রত্যেকেই সিংগীমারী গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহারে আবেয়া বেগম উল্লেখ করেছেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল জমি দখল করে নেওয়া। অভিযুক্তরা নিজেদের জমি দাবি করলেও, জমির বৈধ মালিকানা তার ও তার মেয়েদের নামে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন এবং জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ সম্পূর্ণ তফসিলও এজাহারে উল্লেখ করেছেন।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী আবেয়া বেগম ও তার পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার চেয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করলে মোবাইল ফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Related