
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সিফাতের জীবনযাত্রা ও পড়াশোনায় সহায়তা করতে একটি সোলার প্যানেল ও একটি স্মার্টফোন প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম মিঞা।
শনিবার (৯ জুলাই) রাতে ৯টায় বড়খাতা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দুলু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে এ উপহার সামগ্রী তুলে দেন তিনি। বিদ্যুৎ না থাকায় সিফাতের চলাফেরা ও শিক্ষা জীবনে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো, তা নিরসন করতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিফাত সাপটিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষিনির্ভর পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট সিফাত জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিবারটির ঘরে আলো জ্বালানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকত না। এতে বাড়ির পরিবেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ত ও বাধাগ্রস্ত হতো সিফাতের পড়াশোনা। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে আসার পর তিনি উপজেলা উন্নয়ন ক্ষাত থেকে সোলার প্যানেল ও স্মার্টফোন প্রদানের উদ্যোগ নেন।
উপহার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সিফাত বলেন,বিদ্যুৎ চলে গেলে আমার চলাফেরায় অনেক অসুবিধা হতো। এখন সোলারের আলোয় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারব। স্মার্টফোনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারব। আমি ইউএনও স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
সিফাতের মা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমাদের পরিবারের পাশে আগে কেউ দাঁড়ায়নি। ইউএনও স্যার শুধু সোলারই দেননি, আমার ছেলেকে স্মার্টফোনও দিয়েছেন, যাতে সে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
এবিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা বলেন, ছেলেটি নিজেই আমার অফিসে এসে যোগাযোগ করে। পরে তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হই যে সিফাত একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। সে যদি অ্যাপসের মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারে তাই তাকে উপজেলা উন্নয়ন ক্ষাত থেকে একটি স্মার্টফোন ও চলাফেরার সুবিধার্থে বাড়িতে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
Related