স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী ও ভুক্তভোগী জমির মালিকরা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার চককাঠাল মৌজার ২৮২ ডিপি নম্বরের কিছু জমি ক্রয় ও পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। অভিযোগ স্থানীয় ভূমিদস্যু সাবেক কাউন্সিলর শাহারুল ইসলাম কৌশলে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই জমির কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতি করে নিজের নামে রেকর্ড সংশোধন করে নেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি জানার পর তারা দিনাজপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের পর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আদেশ মোতাবেক ঘোড়াঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার আশরাফুল ইসলাম, সার্ভেয়ার স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন। স্থানীয় এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর শাহারুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস থেকে আমাকে নোটিশ করা হয়েছিল, কিন্তু অসুস্থতার কারণে আমি যেতে পারিনি।আমার জমির কাগজপত্র ৩০ ধারা অনুযায়ী বৈধভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের খতিয়ান ৬৩, আর আমার খতিয়ান ৯৬। মোট জমি ৪ একর ২১ শতক- এর মধ্যে তাদের ৬৩ খতিয়ানে রয়েছে ১ একর ৯৮ শতক, আর আমার ৯৬ খতিয়ানে রয়েছে ২ একর ২৩ শতক। আমার জমি আমার বাবার ক্রয়কৃত, যা কেসের মাধ্যমে আমার নামে রেকর্ড হয়েছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আবুল কালাম বলেন, এগ্রোসিউস মার্ডী, মানুয়েল মামুন মার্ডী ও ইসহাক মার্ডী নামে ৩ জন ব্যক্তি বাদী হয়ে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার বরাবর প্রতিপক্ষ শাহারুল ইসলামের নামে অভিযোগ করে চলমান ভূমি জরিপের ২৮২ নং খতিয়ানের ওপর ৪২ এর “ক” বিধি মোতাবেক রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেছেন। আবেদন মোতাবেক আদেশপ্রাপ্ত হয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার ও সার্ভেয়ার সহ কয়েকজন সরেজমিনে তদন্তে গিয়েছিলেন। তদন্তকালে বিবাদী অনুপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষ সহ গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমাদের অফিস থেকে যথাসময়ে সময়ে তদন্ত রিপোর্ট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিজ নামে রেকর্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন।