1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
নজিরেরহাটে মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে মুখোমুখি কমিটি ও দখলদার নিয়ে আতঙ্কে গ্রামবাসী | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন

নজিরেরহাটে মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে মুখোমুখি কমিটি ও দখলদার নিয়ে আতঙ্কে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৩৪১ জন দেখেছেন

রংপুর নগরীর নজিরেরহাটে মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে মসজিদ কমিটি ও দখলদার বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানে এলাকায় চলছে চরম উত্তেজনা। যেকোনো সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন গ্রামবাসী। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নজিরেরহাট এলাকাটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক উভয় কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ গ্রামে বসবাসরত লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগই মুসলমান। এখানকার বাজারের একমাত্র মসজিদটি রাধাকৃষ্ণপুর ওয়াকফ এষ্টেট মাদ্রাসা ও মসজিদ নামে পরিচিত। গত ২০১৯ সালের ২০ মার্চ স্থানীয়রা মুসল্লি ও কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এর নাম পরিবর্তন করে বায়তুল মামুর জামে মসজিদ নাম নির্ধারণ করেন। তখন থেকে বায়তুল মামুর জামে মসজিদ নামেই পরিচিত এ মসজিদটি। মুসল্লির তুলনায় মসজিদে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এবং জরাজীর্ণ হওয়ায় মুসল্লিরা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩ এপ্রিল মুসল্লিদের প্রস্তাবে মসজিদটির সংস্কারকাজ করে নতুন মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

১০০ ফিট লম্বা ৬০ি ফট প্রস্ত এই বিশাল মসজিদটি নির্মাণে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয় যা মুসল্লিরাসহ গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে মেটানো সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের পরামর্শক্রমে মসজিদ সংলগ্ন মসজিদের মালিকাধীন ২৮ শতাংশ জমিতে দীর্ঘ মেয়াদে দোকানঘর লিজ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ ফিট লম্বা ১০ ফিট প্রস্ত দোকানঘর বরাদ্ধ ও গলি ১০ ফিট লম্বা ১০ ফিট প্রস্ত রাখার সিদ্ধান্তে একটি নকশা প্রস্তুত করা হয়। এতে ৫২টি দোকন ঘর ও ৫টি যাতায়াত রাস্তা সন্নিবেশিত থাকে। সে প্রস্তাবের ভিত্তিতে দোকান গ্রহীতার কাছ থেকে প্রতি দোকানের মূল ও ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা হয়, যা পত্রের মাধ্যেমে প্রতি দোকান মালিককে অবহিত করা হয়।

 

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দোকানের পজেশন বুঝে দেয়ার জন্য মসজিদ কমিটি কিছু শর্ত সাপেক্ষে ১১ সদস্য বিশিষ্ট উপ-কমিটি গঠন করে। যার আহ্বায়ক স্থানীয় ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর মকবুল হোসেন। গত ১৮ অক্টোবর মার্কেটের কাজ শুরু করেন উপ-কমিটি। কাজ পরিচালনাকালে বাজারের পশ্চিমাংশে ৩২ ট পজেশন সঠিকভাবে স্থাপনের পর উক্ত কমিটির কিছু সদস্য নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। তারা ৪-৫ জন মিলে অবশিষ্ট সদস্যদের অগোচরে নকশা পরিবর্তন করে দোকান বাড়িয়ে ৬১টি তৈরি করেন। অতিরিক্ত দোকনগুলোর কাজ জোরপূর্বক চালিয়ে যান এবং পূর্বের কিছু দোকান মালিকের কাছে জুলুম করে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করে এবং একই পজেশন একাধিক বার বেশি দামে বিক্রি করে উপ-কমিটির লাল মিয়াসহ আরো কয়েকজন সদস্য। যা পরবর্তিতে বাজারের ব্যাবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে জানাজানি হয়। বিষয়টি জানাজানির পর থেকে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে থাকে। দিন দিন এ ঘটনায় কানাঘুষা বাড়তে থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তাদের নকশা পরিবর্তনের কারণ ও নবসৃষ্ট পজেশন কার স্বার্থে সৃষ্টি করা হয়েছে তা জানতে চাইলে উপ-কমিটির আহবায়ক মকবুল হোসেন ও সদস্য লাল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক গত ১২ নভেম্বর মেট্রোপলিটন হাজীরহাট থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে হাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজে এসে মসজিদ কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমানকে উপ-কমিটির কাছ থেকে হিসাব নিয়ে ৭ দিনের মধ্যে থানায় যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। কিন্তু সাত দিন অতিবাহিত হলেও উপ-কমিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। হিসাব না পেয়ে গত ১৯ নভেম্বর মসজিদ কমিটির কাছে আবার আসেন ওসি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের তাগিদ দেন তিনি।

এ নিয়ে উপ-কমিটির কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, আমরা ৩২টি দোকান ঘর নির্মাণের সময় সবাই এক সাথে নকশা অনুযায়ী কাজ করেছি। কিন্তু পরের দোকানগুলো আমাদের সাথে কথা না বলে নকশা পরিবর্তন করে লাল মিয়াসহ কয়েকজন সদস্য নিজ ইচ্ছায় তৈরি করে এবং এখন পর্যন্ত কোন টাকার হিসাব দেয় নাই।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কমিটির সাধারন সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। থানার ওসি নিজে সমাধানের চেষ্টা করছেন। আমরা উপ-কমিটির কাছে সঠিক হিসাব চেয়েছি। তারা হিসাব দিলে সমস্যার সমাধান হবে।

মসজিদ নির্মাণ উপ-কমিটির আহবায়ক মকবুল হোসেনের বলেন, আমাদের সবাইকে নিয়ে বসার কথা রয়েছে। বসতে পারলে হয়তো সমাধান হতে পারে।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, আমি সেই মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়েছি। কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেছি। সমস্যা সমাধানের জন্য থানায় ডেকেছি। তারা একসাথে আলোচনায় বসতে বলে আমাকে জানিয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে ব্যবসায়ী, গ্রামবাসী ও মুসল্লিরা আশংকা করছেন। তারা দ্রুত এর সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )