1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
| দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন

শাহাদত হোসেন মিশুক, গাইবান্ধা
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫
  • ২৪৬ জন দেখেছেন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ঢাকায় কেন্দ্রীয় এক নেতার বাসায় বসে একসাথে ১৪টি ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে এসব কমিটি গঠন করার অভিযোগ তুলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি কমিটি অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলেও গত রবিবার (২ মার্চ) রাতে বিতর্কিত এসব কমিটির অনুমোদন দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান। এরপর থেকে শুরু হয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই এই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি শীর্ষ এই দুই নেতা কমিটির শেষ পদ বানিজ্য করে বিদায় নিয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন বঞ্ছিতরা।
এ বিষয়ে বাঞ্ছিত একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে জানান, কোন কর্মীসভা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে পদে রেখে ১৪ টি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে নানা সময়ে বিতর্কিত ও আ.লীগের সুবিধাভোগীদের পদে রেখে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিগত সময়ে নির্যাতিত- নিপীড়িত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আ.লীগের সুবিধাভোগীদের এই কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের সাথে কর্মী সমাবেশ করে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও তা উপেক্ষা করে পকেট কমিটি করা হয়েছে। এতে দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সময় অপকর্মে জড়িত থাকা নেতাদের দেয়া হয়েছে দায়িত্বশীল পদ। এতে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছে।
তারা জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছিল তিন বছর আগে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান প্রামাণিক। মেয়াদ উত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটির এই দুই নেতা সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী এসব আহ্বায়ক কমিটি তিন মাসের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারেনা। কিন্তু গত তিন বছর ধরে একই পদে আছেন শীর্ষ এই দুই নেতা। তবে গত ৫ তারিখ নতুন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলামকে আহ্বায়ক ও আসাদুজ্জামান খন্দকার মাসুদকে সদস্য সচিব করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের পিছনে বিগত সময়ে আমরা বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হয়েছি। বিগত স্বৈরশাসকের সময়ে হয়রানির অসংখ্য মামলায় জেল হাজতে যেতে হয়েছে। কিন্তু যারা কখনোই জিয়ার সৈনিক হিসেবে রাজপথে ছিলেন না তাদেরকেই পদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় বসে একসাথে এতগুলো কমিটি অনুমোদন দেওয়া বিএনপির কোন গঠনতন্ত্রে আছে? তারা তো প্রতিটা ইউনিয়নে কর্মী সভা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি করবে। সেটা না করে একক সিদ্ধান্তে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়েছেন। এসব পদ-পদবি আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বেলায়েত হোসেন সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- দীর্ঘদিন মামলার আসামি হয়ে পলাতক ছিলাম। বিএনপি করেছি জন্য নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছি। হঠাৎ করে শুনি ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু সেই কমিটিতে আমার মতো ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন দলের সুবিধাভোগীদের পদে রাখা হয়েছে।
দহবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা আহসান হাবীব ডলার জানান, আমি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগের হয়রানির মামলার শিকার হয়েছি। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি আমার হাত-মুখ বেঁধে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। আজকে তারা আমাকে বাদ দিয়ে ঢাকায় বসে কমিটি গঠন দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা জানান, শুনেছি ইউনিয়ন কমিটি গুলো ঢাকায় বসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একসাথে ১৪টি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন ঢাকার বাড়িতে বসে দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। তবে একটা আশ্চার্যের বিষয় হলো আওয়ামী লীগ- জাতীয় পার্টির সাথে যারা লেপ্টে ছিল এবং বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে তাঁদেরকে পদে রাখা হয়েছে।  আসলে এগুলো পদ বাণিজ্যের কারণে এভাবে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় ও জেলার নির্দেশ মোতাবেক বিশেষ আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। সবার বায়োডাটা নেওয়া আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )