তারা জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছিল তিন বছর আগে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান প্রামাণিক। মেয়াদ উত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটির এই দুই নেতা সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী এসব আহ্বায়ক কমিটি তিন মাসের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারেনা। কিন্তু গত তিন বছর ধরে একই পদে আছেন শীর্ষ এই দুই নেতা। তবে গত ৫ তারিখ নতুন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলামকে আহ্বায়ক ও আসাদুজ্জামান খন্দকার মাসুদকে সদস্য সচিব করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের পিছনে বিগত সময়ে আমরা বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হয়েছি। বিগত স্বৈরশাসকের সময়ে হয়রানির অসংখ্য মামলায় জেল হাজতে যেতে হয়েছে। কিন্তু যারা কখনোই জিয়ার সৈনিক হিসেবে রাজপথে ছিলেন না তাদেরকেই পদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় বসে একসাথে এতগুলো কমিটি অনুমোদন দেওয়া বিএনপির কোন গঠনতন্ত্রে আছে? তারা তো প্রতিটা ইউনিয়নে কর্মী সভা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি করবে। সেটা না করে একক সিদ্ধান্তে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়েছেন। এসব পদ-পদবি আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বেলায়েত হোসেন সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- দীর্ঘদিন মামলার আসামি হয়ে পলাতক ছিলাম। বিএনপি করেছি জন্য নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছি। হঠাৎ করে শুনি ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু সেই কমিটিতে আমার মতো ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন দলের সুবিধাভোগীদের পদে রাখা হয়েছে।
দহবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা আহসান হাবীব ডলার জানান, আমি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগের হয়রানির মামলার শিকার হয়েছি। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি আমার হাত-মুখ বেঁধে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। আজকে তারা আমাকে বাদ দিয়ে ঢাকায় বসে কমিটি গঠন দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা জানান, শুনেছি ইউনিয়ন কমিটি গুলো ঢাকায় বসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একসাথে ১৪টি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন ঢাকার বাড়িতে বসে দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। তবে একটা আশ্চার্যের বিষয় হলো আওয়ামী লীগ- জাতীয় পার্টির সাথে যারা লেপ্টে ছিল এবং বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে তাঁদেরকে পদে রাখা হয়েছে। আসলে এগুলো পদ বাণিজ্যের কারণে এভাবে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় ও জেলার নির্দেশ মোতাবেক বিশেষ আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। সবার বায়োডাটা নেওয়া আছে।