1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
দুই ফিট ৮ ইঞ্চির মেয়েকে নিয়ে চরম দুচিন্তায় দিন কাঁটছে দরিদ্র বাবা-মা | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

দুই ফিট ৮ ইঞ্চির মেয়েকে নিয়ে চরম দুচিন্তায় দিন কাঁটছে দরিদ্র বাবা-মা

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম)
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫
  • ১২০ জন দেখেছেন
চাঁদনী খাতুন (১৪)। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী (বামনাকৃতির)। চাঁদনীর উচ্চতা দুই ফিট আট ইঞ্চি। প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তায় বাবা-মায়ের চোখে ঘুম নেই। প্রতিবন্ধী এই মেয়েকে নিয়ে কী করবেন, কোথায় যাবেন কোনো কিনারা করতে পারছেন না। মেয়ের চিন্তায় অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েন দরিদ্র পরিবারটি।
চাঁদনী খাতুন এর বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের জ্যোতিন্দ্র নারায়ণ গ্রামে। বাবা দিন মজুর চাঁন মিয়া ও মা — খাতুন গৃহিনী। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। পড়াশুনায় মেধাবী না হলেও মোটামুটি ভালো। স্থানীয় মিয়া পাড়া নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। চাঁদনীর উচ্চতা দুই ফিট ৮ ইঞ্চি।
চাঁদনীর বাবা চাঁন মিয়া ও মা রত্না বেগম জানান চাঁদনী জন্মের সময় যেন একটা সুস্থ সবল ছিল। কিন্তু এর পরেই নানা মুখী সমস্যা দেখা দেয়। এরপর সে আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের নুন আনতে পানতা ফুড়ায় সেখানে কিভাবে  তার
চিকিৎসা করাই। সামর্থ্য না থাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার ফলে তার বাড়ন্ত কমে যায়। এখন সুস্থ হলেও তার উচ্চতা আশানুরূপ হয়নি। ফলে  চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাঁটছে বাহে ? এক দিকে মেয়ের চিন্তা অন্য দিকে সংসার চালানোটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কষ্টে মেয়েটির প্রতিবন্ধী ভাতাটুকু করে নিতে পেরেছি। এতো কষ্ট থাকার পরেও আমাদের ভাগ্যে কোন ধরণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইনি। আগে অনেক কিছুই ছিল, সব কিছুই নদীয়ে কেড়ে নিয়েছে। সামনে ঈদ আসছে, মেয়েটার জন্য নতুন পোশাক পরিচ্ছেদ নিতে পারো কি না বলেই কেঁদে ফেলেন চাঁদনীর মা বলেন রমজান মাসে মানুষ কত কি ভালো মন্দ খাচ্ছে। কোন রকম ডাল-ভাত খেয়ে দিন পাড় করছি বাহে।
চাঁদনীর মা রত্না বেগম জানান, মেয়েটার সমস্ত কাজ করে দিতে হয়। বাথরুমে পানি পৌঁছে দেয়া, এর পর হাত-মুখ ধুয়ে দেয়া, গোসল করানো, পোশাক পরিচ্ছেদ পরিধান করা এবং অনেক সময় খাবারও মূখে তুলে দিতে হয়। এমনকি স্কুলেও যাওয়ায় একজনের সাহায্যে। মেয়েটা এতো নার্ভাস, তার মনে সব সময় ভয় কাজ করে। অপরিচিত কেউ আসলেই মূখে কথা বের হয় না। ভয়ে চোখের পানি বের হয়।  তার সমস্ত কাজ কর্ম সবটাই মা হয়ে করতে হচ্ছে। আমি যখন থাকবো না তখন মেয়েটার কি হবে শুধু একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।
চাঁদনীর আন্টি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিরা খাতুন জানান, চাঁদনী প্রতিদিন আমার সাইকেলে করে স্কুল নিয়ে যাই। কোন কারণে আমি যদি স্কুলে না যাই তাহলে চাঁদনী আন্টিরও আর স্কুলে যাওয়া হলো না।আমাক ছাড়া চাঁদনী কখনও স্কুলে যায় না। আমার কোন কারণে সমস্যা হলে তার মা অথবা তার বাবা যদি স্কুলে নিয়ে যায় সেই দিন তার মনটা মোটেও ভালো যাবে না।

চাঁদনীর দাদী চায়না খতুন ও  চাচি শায়না বেগম চাঁদনীর জন্য তার বাবা-মা সব সময় দুচিন্তা করে। চাঁদনী বয়সের চেয়ে অনেক কম বয়সি মেয়ে বিয়ে করে সংসার করছে। চাঁদনী স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ আছে বলে সে প্রতিদিন স্কুলে যায়। তবে সে যে খুব মেধাবী তা কিন্তু নয়। তারপরও আমরা চাই চাঁদনী পড়ালেখা করে অন্তত নিজের জীবনটা যেন চালাতে পারে৷ আমরা তার সাফল্য কামনা করছি।
দুই ফিট ৮ ইঞ্চির শিক্ষার্থী চাঁদনী খাতুন জানান, স্কুল খোলা থাকলে আন্টির সাইকেলে চড়ে প্রতিদিন স্কুলে যাই। কোন কারণে আন্টি স্কুল না গেলে সেই দিনটিতে আমার স্কুলে যাওয়া হয় না। স্কুলে বন্ধু বান্ধবীরা আমার সাথে ভালো ব্যবহারও করে। বাবার দিন মজুরীর আয়ে আমাদের সংসার চলে। স্কুলের উপবৃত্তি ও আমার প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার একটু কষ্ট হলেও  চেষ্টা যাচ্ছি । সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
জ্যোতিন্দ্র নারায়ণ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান চাঁদনী মাত্র দুই ফিট আট ইঞ্চি হওয়ায় তার বাবা-মা তাকে নিয়ে সব সময় দুচিন্তা করে। তারপরও চাঁদনী স্কুলে যায় এবং তার সাফল্য কামনা করছি। সেই সাথে ওই পরিবারটিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করা হবে।
শিমুলবাড়ী মিয়াপাড়া নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা: নাজমা বেগম জানান, চাঁদনী নামের শিক্ষার্থীর উচ্চতা ২ ফিট ৮ ইঞ্চি। তার বাবা খুবই দরিদ্র  বাকী সব শিক্ষার্থীর চেয়ে সে ভিন্ন প্রকৃতির। তারপরেও সে স্কুলে নিয়মিত আসে এবং পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ আছে। তাকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করায় সে নিয়মিত উপবৃত্তি পাচ্ছে। চাঁদনী জন্য আরও কিছু সহায়তা করা গেলে তার বাবার জন্য ভালো হতো। আমরা চাই চাঁদনী পড়ালেখা করে নিজে প্রতিষ্ঠিত হোক।  তার সাফল্য কামনা করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )