
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ড্রোনের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাশ ড্রোন প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের ৮২৯ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের ফুলকা ডাবরি বিএসএফ ক্যাম্প থেকে ড্রোনটি একাধিকবার বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ ড্রোনটি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং কিছু সময় পর আবার ফিরে যায়। এভাবে একাধিকবার ড্রোনটি প্রবেশ-প্রস্থান করলেও বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ড্রোনটি ছবি ও ভিডিও ধারণ করে চলে গেলেও বিজিবি নীরব ভূমিকায় রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আল মারুফ লেখেন, গত ১০ দিনে একাধিকবার বিএসএফ ড্রোন পাঠিয়েছে, কিন্তু স্থানীয়রা কোনো প্রমাণ রাখতে পারেনি বলে বিজিবি প্রতিবাদ করেনি। সীমান্ত এলাকার এক যুবক বলেন, “প্রতিদিন আমরা ড্রোন আর আলো ফেলার আতঙ্কে থাকি। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদেরকেই প্রতিরোধে নামতে হবে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিএসএফ জিরো লাইনের মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেছে। এসব লাইটের তীব্র আলো রাতের বেলায় বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পাটগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তবিবর রহমান জানান, আগের বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। বিজিবি বিষয়টি আগেই জানত। এ বিষয়ে একাধিকবার ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Related