


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের মধ্যেই রাতের আঁধারে খুচরা দোকানে সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে পাকেরহাটের সারের ডিলার মেসার্স মহাদেব চন্দ্র -এর মালিক মহিতোষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা ছাড়াই সার পাঠানো এবং কৃষকদের হয়রানির এই চিত্র উঠে এসেছে। কয়েকদিন ধরে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা অভিযোগ জানাচ্ছিলেন—ডিলারের দোকানে গেলে সার পাওয়া যায় না, অজুহাত দেখানো হয় সংকটের। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কখনও সার পাওয়া গেলেও বাড়তি দাম নেওয়া হয়। কৃষকরা যখন দিশেহারা হয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে সাহায্য চান।
এরই অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় পাকেরহাটের বাইপাস সড়কে অনুসন্ধান চালায় কয়েকজন সংবাদকর্মী। এসময় তারা তিনটি ভ্যানে করে খুচরা দোকানে সার পাঠানোর সময় ভ্যানগুলো আটক করেন। ভ্যানচালকদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা সার পরিবহনের কোনো সঠিক কাগজপত্র কিংবা উত্তর দিতে পারেনি। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে সংবাদকর্মীরা ভ্যান চালকদের বিষয়টি ডিলার মহিতোষ চন্দ্রকে জানানোর জন্য বলেন।
কিন্তু অভিযোগ আমলে নেওয়ার বদলে মহিতোষ চন্দ্র স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করেন, ভয়ভীতি দেখান এবং উদ্ভট পরিস্থিতি তৈরি করেন। একপর্যায়ে কৌশলে আটক করা সারবোঝাই ভ্যানগুলো নির্দিষ্ট খুচরা দোকানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংবাদকর্মীরা বারবার শান্ত ভাষায় কথা বলতে চাইলে তিনি তা উপেক্ষা করে উত্তেজনাকর আচরণ অব্যাহত রাখেন। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম ,আইজুল ইসলাম ও ওমর আলী জানান, “আমরা ডিলারের দোকানে গেলে বলে সার নাই। আবার যখন পাওয়া যায় তখন বেশি দাম দিতে হয়। অথচ রাতের অন্ধকারে সার খুচরা দোকানে পাচার হয়ে যাচ্ছে—এসব দেখার কেউ নাই।”
এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিটি ডিলারকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে—খুচরা কোনো দোকানে সার দিলে অবশ্যই রশিদ প্রদান করতে হবে এবং কোন অবস্থাতেই অন্যত্র সার পাচার করা যাবে না। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ডিলারের খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা আপনাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। সাংবাদিকদের এখতিয়ার আছে এসব অনিয়ম মনিটরিং করার। আজকের ঘটনাটি আমি আমলে নিয়েছি, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”