


দিনাজপুরের খানসামায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা ও উপজেলা স্তরের নেতৃবৃন্দ শিবিরের ১৪১তম শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদের কবর জিয়ারত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। রবিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে কবর জিয়ারতের পর তাঁরা শহীদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
পরিবারের খোঁজখবর নিতে গিয়ে শিবির নেতারা বলেন, শহীদ মুজাহিদের ত্যাগ, আদর্শ ও সাহসিকতা আজও তরুণ সমাজকে ন্যায়, সত্য ও আদর্শের পথে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জোগায়। শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার মানসিকতা থেকে যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। নেতারা উল্লেখ করেন, শহীদদের স্মৃতি লেখচিত্র শুধু একটি পরিবারের ইতিহাস নয়—এটি ন্যায়বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রজন্মের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। মতবিনিময়ের সময় নেতারা মুজাহিদের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে তাঁর আদর্শ ধারণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, একটি আদর্শবান তরুণের মৃত্যু কোনো পরিবারকেই শুধু শোকাহত করে না; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পুরো সমাজকেই দায়বদ্ধ করে তোলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খানসামা উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সেক্রেটারি মো. হাবিবুর রহমান, জেলা অর্থ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন, এইচআরডি সম্পাদক ও উপজেলা যুববিভাগের সেক্রেটারি ওমর ফারুক, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ওলামা বিভাগের সভাপতি সেকেন্দার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শহীদ মুজাহিদের গর্বিত পিতা মাওলানা আতাউর রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুরের রানীরবন্দরে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত হরতাল কর্মসূচির সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ হঠাৎ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ করে। এতে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের ছোড়া গুলি মাথায় লাগলে মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদ গুরুতর আহত হন এবং রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে ঐদিন রাত সাড়ে আটটায় তাঁর মৃত্যু হয়। শিবির ইতিহাসে তিনি ১৪১তম শহীদের মর্যাদা লাভ করেন।