২০০৪ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদ অ্যাক্ট ও অর্ডিন্যান্স পাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। তবে ২০১৯ সালে রিজেন্ট বোর্ডে একটি অর্ডার পাশ হয়, যেখানে বলা হয় বিভাগসমূহ মাস্টার্স ডিগ্রিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে। পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদ বলছে, ওই অর্ডার বাস্তবায়নের জন্য কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি, ফলে তা কার্যকর নয়। এছাড়াও তৎকালীন প্রশাসন ও এই অর্ডার বাস্তবায়ন করে নি। তাদের মতে, অর্ডিন্যান্স ছাড়া অর্ডার ভিত্তিহীন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে মাস্টার্স চালু হলে ডিগ্রির স্বীকৃতি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ বলেন, স্নাতকোত্তর শিক্ষা অনুষদই মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি পরিচালনার একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্রভাবে মাস্টার্স চালু করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে ক্রপ ফিজিওলজি এন্ড ইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, ২০১৯ সালে রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হওয়া অর্ডার অনুযায়ী আমরা বিভাগে মাস্টার্স শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়েছি। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদ যেমন ভর্তি করছে, আমরাও করব। বিভাগীয় মিটিং রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ডিসেম্বর মাস শেষ হলেও জানুয়ারি–জুন ২০২৬ সেমিস্টারের মাস্টার্স ভর্তির সার্কুলার প্রকাশ করতে পারেনি পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদ। ফলে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, বিভাগীয় সার্কুলার প্রকাশে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—কোন সার্কুলার বৈধ, কোনটিতে ভর্তি নিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে তা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম সিকদার বলেন, ২০১৯ সালেই আইন পাশ করা হয়েছে। এখন যে বিভাগ এককভাবে মাস্টার্সে ভর্তি করতে চায় তারা করতে পারবে। এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটার সম্ভাবনা নেই।
বেশ কয়েকটা বিভাগের চেয়ারম্যান জানান, মাস্টার্স ডিগ্রিতে ভর্তির বিষয়ে প্রশাসনের থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাইনি। আমরা জানি পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদ সার্কুলার দিয়ে ভর্তি নেয় আমরা বাকি কার্যক্রম করে থাকি। আমাদের কাছে বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিতে ভর্তি নিতে কোন প্রসেস এ নেওয়া হবে ভর্তির টাকা কোন একাউন্টে জমা হবে ভর্তি ফরম কি রকম হবে এসবের কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি।
শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এ অবস্থায় সেশনজট দেখা দিতে পারে। অনুষদ থেকে সার্কুলার না আসায় ভর্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে, আবার বিভাগীয় সার্কুলার প্রকাশে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সুনামও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন—মাস্টার্স ভর্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে: অনুষদের সাংবিধানিক কাঠামো ধরে রাখা হবে নাকি বিভাগীয় উদ্যোগে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। এর উত্তর না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।