


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফের টহল জোরদারের মধ্য দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে (নোম্যান্স ল্যান্ডে) দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত করতে পারেনি বাংলাদেশি ভক্তরা। শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৫ পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফের নোম্যান্স ল্যান্ডে দরবেশ কছিম উদ্দিন মাজার জিয়ারত উপলক্ষ্যে টহল জোরদার থাকায় ভারতের ভুখন্ডে মাজারটি অবস্থান হওয়ায় ভারতীয় শতশত নারী পুরুষরা অংশগ্রহন করলেও বাংলাদেশি ভক্তরা মাজারে যেতে পারেনি।
ফলে দরবেশ কছিম উদ্দিনের ৭৯ তম জিয়ারত মানত দিতে না পারায় শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাজারের পাশে দলেদলে বাংলাদেশি ভক্তরা ফেরে গেলেন। জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা নাখারজান সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলা সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামের দরবেশ কছিম উদ্দিন মাজারটি অবস্থিত । এই মাজারটি সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ৯৪১ এর সাব পিলার ১ এস থেকে ৫ এসের নিকট জিরো লাইনে প্রায় ২শ বছর পূর্বে আরব থেকে আসা ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গাড়েন ওই দরবেশ।
ধর্ম প্রচারের একপর্যায় তার মৃত্যু হয়। নির্ঝন ওই এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর সীমান্তের দু’পাড়ের ধর্মপ্রাণ লোকজন প্রতি ১০ জানুয়ারী মৃত্যু দিবস পালন করেছে সীমান্তে বসবাসরত ভারতীয়রা। সেখানে ওরস মোবারকের সঙ্গে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ৭ শতক জমির ওপর নির্মান করা হয় তাবু। জিয়ারতের পাশা পাশি এই দিনে দু’দেশের আত্মীয়স্বজনদের দেখা মেলে অনুষ্ঠানে। এক অপরের সাথে কথা হতো দীর্ঘ দিন পর।
সেই আশায় বাংলাদেশিরা মাজারে পাশে জড়ো হলেও বিজিবি-বিএসএফের কট্টর নজরদারি থাকায় আত্মীয়-স্বজনদের দেখা মেলেনি। জিরো লাইনে দরবেশের মাজারটি হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে বসবাসকারীরা যৌথ আয়োজনে ওরসটি পালন করে। এবার ভারতীয় বিএসএফের বাধায় বাংলাদেশিরা প্রবেশ করতে পারেনি। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার লিমন মিয়া ও ফরিদা আক্তার জানান, আমাদের চাচাতো ভাই ভারতের কোচবিহারের দিনহাটা শহর থেকে মফিজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন এসেছিল জিয়ারে। হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছে। আশা করছি মেলায় দেখা হবে। অনেক আশা করে এসেছিলাম তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে পরিবারের সংবাদ জানবো। কিন্তু সে আশা পুরুণ হলো না। মাজারের মানত ও দিতে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।
লালমহিরহাটের মহিন্দ্র নগর এলাকার গীতা রানী জানান, মেয়েকে দেখার জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা থাকেন কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার ধাপরাহাট এলাকায়। প্রায় ১০ বছর ধরে মেয়ের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নেই। অনেক আনন্দ নিয়ে পরিবারসহ দরবেশ কছিম উদ্দিনের জিয়ারত করতে এসেছি। কবর জিয়ারত হলো না সাথে মেয়ের সাথেও সুখ দুখের আলোচনাও হলো না। বিজিবি-বিএসএফের টহল জোরদারের কারনে সেখানে যেতে পারিনি। তারপরও বিকার ৪ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে যাই।
নাখারজান এলাকার বুলু ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম ও জোবেদ আলী জানান, আমাদের বাড়ীর পাশে দরবেশের মাজার হলেও আমরা এবছর মাজার জিয়ারত করতে পারিনি। অথচ আমরা উভয় দেশের বসবাসকারীদের মাধ্যমে জাকজমক ভাবে ওরস মোবারক পালন করেছিলাম। এলাকায় বসতো মিলন মেলা। দুই দেশের জিনিসপত্র বিক্রি হতো মেলায়। দু’দেশের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা হতো। কিন্তু সেই আশা আমাদের পুরন হলো না।
দরবেশ কছিম উদ্দিনের জিয়ারত কমিটির ভারতের অংশের সভাপতি আব্দুল জলিল জানান, বিএসএফের বাধার কারণে বাংলাদেশিদের প্রবেশ একেবারে নিষেধ ছিলো। শতশত বাংলাদেশি মাজার প্রাঙ্গণে আসার সুযোগ হয়নি। আমরা সকাল থেকে বিকাল ৫ টার মধ্যে জিয়ারত করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে বিএসএফ। এ বিষয়ে লালমনিহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গংগারহাট ক্যাম্পের টহলরত হাবিলদার রবিউল ইসলাম জানান, ভারতের ভুখন্ডে কছিমুদ্দিনের মাজার হওয়ায় বাংলাদেশিদের জিয়ারত করার কোন সুযোগ নেই। বিএসএফের চিটি দিয়ে আগে অবগত করেছেন। যাতে বাংলাদেশিরা সেখানে যেতে না পারে এ জন্য বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।