


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ইউপি সদস্যের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে ওই ইউপি সদস্য তার নিজ বাড়ির উঠানে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। মো. জাহিদুল ইসলাম উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য। মো. জাহিদুল ইসলাম পুলিশের এ ধরনের আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জনকল্যাণ, স্থানীয় উন্নয়ন ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। তাছাড়া থানায় আমার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।
ইউপি সদস্য বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই আবদুল লতিফ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ আমার বাড়িতে আসেন। তখন আমি বাড়িতে ছিলাম না। এ সময় ঘরের বেড়ায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন তারা। শব্দ শুনে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান জানালা দিয়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান।
ইউপি সদস্যের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী পুলিশ আসার কারণ জানতে চাইলে তারা নিজেদের থানার লোক পরিচয় দিয়ে গেট খুলতে বলেন। পরে তারা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে শয়নকক্ষ ও গোয়ালঘরসহ কয়েকটি কক্ষ তল্লাশি চালান। তবে কোনো আলামত বা আপত্তিকর কিছু না পেয়ে তারা চলে যান। পরে রাতে বাড়িতে আসলে বিষয়টি ইউপি সদস্য জানতে পেয়ে এসআই আবদুল লতিফকে ফোন দেন। তখন এসআই তাঁকে থানায় আসতে বলেন। ইউপি সদস্য লিখিত বক্তব্যে বলেন, এ ঘটনায় অসম্মানিত বোধ করছি আমি। কারণ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তাছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অথবা সরাসরি আমাকেও ফোন দিতে পারতেন তারা।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই আবদুল লতিফ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওই এলাকা দিয়ে মাদক চোরাচালান হচ্ছে এ ধরনের তথ্য ছিলো আমাদের কাছে। সে কারণে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মাদক কারবারিরা। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ইউপি সদস্যের বাড়িতে যাই। তার বাড়িতে কোনো তল্লাশি বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে যাইনি। সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্যের স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীসহ স্থানীয় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।