1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ট্রাম্পের শূন্য হাতে ফেরার পর এবার চীন সফরে পুতিন | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের শূন্য হাতে ফেরার পর এবার চীন সফরে পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ১৭ জন দেখেছেন

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করে শূন্য হাতেই ওয়াশিংটন ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা হলেও দুই পক্ষের অবস্থান খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, আগামী ১৯ থেকে ২০ মে পুতিনের এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে মস্কো ও বেইজিংয়ের ‘সমন্বিত অংশীদারি ও কৌশলগত সহযোগিতা’ আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন বলছে, এ সময় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে পুতিনের।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে আলজাজিরা আরো বলছে, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত রাশিয়া-চীন ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটন ফিরে যাওয়ার একদিন পরেই পুতিনের এই সফরের খবর এমন সময়ে এলো। যদিও প্রায় ৪০ ঘণ্টার এই সফর ফলপ্রসূ হয়নি।

ট্রাম্প ও শি কয়েকটি বড় বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করলেও তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
দুই নেতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
যদিও চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলে আসছে এবং শি নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ঘোষিত চীন-রাশিয়ার ‘সীমাহীন অংশীদারিত্ব’ সেই অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বাণিজ্যিক অংশীদার

এদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়ার প্রধান বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে চীন। মস্কোর তেল ও অন্যান্য পণ্য কেনার মাধ্যমে বেইজিং রাশিয়ার অর্থনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন শি চিনপিং।
বৈঠকে মস্কোর সঙ্গে ‘আরও ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী কৌশলগত সমন্বয়’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে গত বছরের মে মাসে রাশিয়া সফরে গিয়ে শি বলেছিলেন, ‘একতরফা ও আধিপত্যবাদী চাপের’ বিরুদ্ধে মস্কোর পাশে থাকবে বেইজিং।
ট্রাম্পের ব্যর্থ সফর
বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিতই রয়েছে। চীন তার আগের শান্তি পরিকল্পনায় অটল রয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে প্রত্যাশিতভাবে চীনকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে রাজি করানোর মার্কিন প্রচেষ্টা কোনও দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
বেইজিং বৈঠকের সময় চীন পুনরায় যুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সংঘাত শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর গুরুতর মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করছে।
চীন আরও জানায়, তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি চার দফা পরিকল্পনা অনুসরণ করছে।

বৈঠকের আগে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনের সহায়তা চেয়েছিলেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে। তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, ওয়াশিংটন একাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ইরান সংকট সমাধানে চীনের কিছু প্রভাব থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে আধিপত্য
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানায়, দুই দেশ একমত হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকতে হবে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তবে চীন এ বিষয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়নি, যদিও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানি বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছে।

পারমাণবিক উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, দুই দেশ একমত যে, ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তবে চীনের বিবৃতিতে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও কঠোর অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। বরং তারা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছে।
ফলে শি-ট্রাম্প বৈঠক ইরান যুদ্ধ নিরসনে কোনও ফলপ্রসূ দিক নির্দেশনা দৃশ্যমান হয়নি। দুই পরাশক্তির কৌশলগত ও রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )