


রংপুর মহানগরীর ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দামুদারপুর বড়ময়দান এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে “স্বপ্নের ঘাঘট সেতু”। স্থানীয় সমাজসেবক শামসুল আজম ও ইভা মাসুমের নেতৃত্বে এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। তবে সেতুটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করতে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি সিমেন্টের পিলার ও স্টিলের পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তিন বছর আগে স্থানীয়দের ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেটি নষ্ট হয়ে ভেঙে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় টেকসইভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ এই সেতু ব্যবহার করছেন।
সেতুটি চালু হওয়ায় শ্যামপুর, বদরগঞ্জ, লাহিড়ীরহাট, কেরানীরহাট, গোপীনাথপুর, রাধাকৃষ্ণপুর, শ্রীরামপুর, কাশিমবাজার, বড়ময়দান, সম্মানিপুর, পীরজাবাদ, বানিয়াপাড়া, সুলতান মোড়, হাজিরহাট ও নজীরেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে রংপুর শহরের দূরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার কমে এসেছে। ফলে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই কমেছে।এছাড়া রাধাকৃষ্ণপুর ডিগ্রি কলেজ, রাধাকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশেমবাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসা, জোবেদা আজিজন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সম্মানিপুর হাজী জব্বার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এ সেতুর মাধ্যমে সহজে যাতায়াত করতে পারছে।স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো।
অনেক সময় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যেত না। সেতুটি হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বর্তমানে সেতুটি চালু হওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী ও বড় পরিসরের সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।