


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে সরকারি সেবা থেকে মৎস্যচাষি ও জেলেদের বঞ্চিত রাখার অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি, প্রশিক্ষণ, সরকারি প্রণোদনা ও উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য যথাসময়ে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মৎস্যচাষি ও জেলেরা। মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, মাছের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ, উন্নত মাছ চাষের প্রশিক্ষণ, সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা বা উপকরণ, পোনা ও মাছের খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ, প্রদর্শনী খামার বা প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্য অনেক চাষির কাছে নিয়মিত পৌঁছায় না।
একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে মৎস্য প্রকল্প পরিদর্শন ও চাষীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে। মৎস্যচাষি জোবায়দুল ইসলাম বলেন, বিগত অনেক দিন ধরে উপজেলা মৎস্য অফিসে গিয়ে পিয়ন চাচা ছাড়া কাউকে পাইনি। কোনো সেবা পাওয়া তো দূরের কথা, কর্মকর্তাদের দেখাই হয়নি। একদিন ফোনে যোগাযোগ করলে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আসার কথা বলা হয়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পিয়নের সঙ্গে বসে থেকেও কর্মকর্তার দেখা পাইনি। তিনি আরও বলেন, আমি প্রায় ৩৫০ একর জমিতে মাছ চাষ করছি।
অথচ মৎস্য অফিস আমার প্রকল্প সম্পর্কে জানেই না। উপজেলা অফিস থেকে আমার প্রকল্পের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। দুইবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষি মাহফুজ শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কবে মৎস্য সপ্তাহ হলো, সেটাই জানি না। আমি নিজেই দুইবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি,রৌপ্য ও স্বর্ণ পদক। অথচ আমিই জানি না। অন্যরা কীভাবে উপস্থিত থাকবে? এটা হাস্যকর।
মৎস্যচাষি শুভ আহমেদ বলেন, ২০১৮ সাল থেকে মৎস্য অফিসে আমার নাম মৎস্যচাষি হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। এত বছর ধরে মাছ চাষ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সেবা পাইনি। অন্যদিকে জেলেদের অভিযোগ, সরকারি নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সহায়তা, নিষেধাজ্ঞার সময় প্রণোদনা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ, প্রশিক্ষণ, সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির তথ্য এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে অনেক জেলে যথাযথভাবে অবহিত হন না।
জেলে পলাশ চন্দ্র বলেন, আমরা বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালাই। কিন্তু মৎস্য অফিসের সেবা বলতে কী আছে, সেটাই অনেক জেলে জানেন না। নিষেধাজ্ঞার সময় সহায়তা, প্রশিক্ষণ কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধার খবর সময়মতো আমাদের কাছে পৌঁছায় না। অফিস থাকার পাশাপাশি মাঠে জেলেদের পাশে দাঁড়ানোও দরকার।
জেলে আকাশ চন্দ্র বলেন, মৎস্য অফিসে জেলেদের জন্য সরকারি কত সুযোগ-সুবিধা আছে, তার অনেক কিছুই আমরা জানি না। মাঠে জেলেদের খোঁজ নেওয়ার লোক নেই। সমস্যার কথা বললেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। কাগজে-কলমে সেবা থাকলেই হবে না, জেলেরা বাস্তবে সেই সেবা পাচ্ছে কি না,সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।
প্রান্তিক জেলে সম্বারু বলেন, এখন আর আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। সরকারও আমাদের পাশে দাঁড়ায় না। খুব কষ্টে আছি। নাঈমুল ইসলাম বলেন, আমাদের মৎস্য দল রয়েছে এবং সেটি নিবন্ধিত। কিন্তু মৎস্য অফিস থেকে কোনো খবরই পাই না। সরকারি কর্মসূচি বা সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয় না।
এদিকে সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গঙ্গাচড়ায় মাছ ধ্বংসের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসারই দায়ী। তাঁর দাবি, মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং মৎস্যচাষিদের স্বার্থে মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে খতিয়ে দেখব, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিব।