বিরামপুর পৌর এলাকার কৃষ্টচাঁদপুর গ্রামে নিহতের স্ত্রী মাহমুদা বেগম জানান, ঐ গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে তার স্বামী নিহত মুকুল হোসেনের (৪০) আবাদি জমি রয়েছে।
একই স্কুলে নিহত মুকুলের মেজো ভাই এটিএম শামসুজ্জামান সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিনের উচ্ছিষ্ট, ছেঁড়া কাগজ ও ময়লা আবর্জনা জড়ো করে মুকুলের ধানের জমিতে ফেলার কারণে খেতের ক্ষতি হওয়ায় মুকুল স্কুলের শিক্ষকদের বিষয়টি জানাতে সোমবার স্কুলে যান। এসময় মুকুলের মেজো ভাই ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক এটিএম শামসুজ্জামান নিহত মুকুল ও তার স্ত্রীকে ধমক দিলে বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
মুকুল ও তার স্ত্রী সেখান থেকে ফিরে এলেও শিক্ষক এটিএম শামসুজ্জামান ঘটনাটি তার আত্মসম্মানের হানী করেছে বলে তার বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন (৫০) ও দেলোয়ারের ছেলে দিনার (১৮)সহ পরিবারের অন্যদেরকে মুকুলে প্রতি ক্ষেপিয়ে তোলেন। সোমবার দিবাগত রাতে মুকুল ও তার স্ত্রী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় এটিএম শাসুজ্জামানসহ তার সংঘবদ্ধ দল মুকুলকে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় মুকুলের স্ত্রী মাহমুদাকেও মারপিট করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিনের উচ্ছিষ্ট, ছেঁড়া কাগজ ও ময়লা আবর্জনা জড়ো করে মুকুলের ধানের জমিতে ফেলার কারণে খেতের ক্ষতি হওয়ায় মুকুল স্কুলের শিক্ষকদের বিষয়টি জানাতে সোমবার স্কুলে যান মুকুল ও তার স্ত্রী ।
এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে নিহত মুকুলের মেজো ভাই এটিএম শামসুজ্জামান ও তার বড় ভাইসহ অন্যান্যরা মুকল ও তার স্ত্রীকে বেধড় মারপিট করেন। স্থানীরা মুমূর্ষ অবস্থায় মুকুলকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত: ঘোষণা করেন।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।