1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
রংপুরে আওয়ামীলীগ ও সন্ত্রাসীদের দাপটে দোকান ভাংচুর , থানায় মামলা | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

রংপুরে আওয়ামীলীগ ও সন্ত্রাসীদের দাপটে দোকান ভাংচুর , থানায় মামলা

মিঠুপুকুর(রংপুর)প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৬৮ জন দেখেছেন
দোকান ভাংচুর , থানায় মামলা

নবনির্মিত মার্কেটের ১১টি দোকান ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতার সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ধ্বংসযঙ্গের ঘটনায় ওই এলাকার জনমনে আতংক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের মিঠাপুকুরে উপজেলার পদাগঞ্জহাটে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাতে মোছাব্বির বকশি বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামী করে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, খোড়াগাছ ইউনিয়নের খোড়াগাছ পশ্চিমপাড়া গ্রামের আনছার বকশির ছেলে মোছাব্বির বকশি প্রায় দু’মাস আগে পদাগঞ্জহাটে তার নিজ মালিকানাধীন জমির উপর একটি মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছেন মাহাবুবুল হক বাবলু ও ফেরদৌস রহমান ফিদ্দু নামে স্থানীয় দুই আওয়ামীলীগ নেতা। অভিযুক্ত মূল হোতা মাহাবুবুল হক বাবলু (৫৫) খোড়াগাছ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ফেরদৌস রহমান ফিদ্দু (৪৫) খোড়াগাছ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি।

তারা নিজেদের আধিপত্য ও দাপট দেখিয়ে একের পর এক মিথ্যা-বানোয়াট অপকৌশল চালাতে থাকেন। নির্মাণ কাজেও বাধা দেন। ক্ষতিগ্রস্থ মার্কেটের মালিক বকশি সেইসময় বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করলে মিঠাপুকুর ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিম তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ভুক্তভোগীকে আইনী সহায়তার আশ্বাস দেন।

 

এরপর স্বাভাবিকভাবেই মার্কেটের ১১টি দোকানের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নবনির্মিত দোকানগুলোতে ৬-৭ দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের উঠার কথা ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো অন্তত ২০টি পরিবারের। কিন্তু সেই স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে মিঠাপুকুরে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প না থাকার সুযোগে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠে অভিযুক্তরা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মার্কেটে ভাংচুর চালায় ফিদ্দু বাহিনী। লুট করে নিয়ে যায় দোকান ঘরের সার্টারের স্লাইড, গ্রিল ও রড। এতে প্রায় ২৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, মার্কেট ভাংচুরের দৃশ্যটা সবাই দেখেছে। কিন্তু ওরা এতটাই ভয়ংকর যে, কেউ মুখ খুললে তার শেষ দেখে ছাড়বে। ওদের উপর কথা বলার সাহস কারো নেই। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এলাকায় তাদের একক আধিপত্য ছিল, এখনো আছে। মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবকিছু ওদের নিয়ন্ত্রণে, প্রকাশ্যেই সবকিছু হচ্ছে। ওরা যা বলবে এই পদাগঞ্জে তাই হবে। কেই প্রতিবাদ করবে না। কারণ প্রতিবাদ করলেই মহাবিপদ।

 

ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের মালিক মোছাব্বির বকশি বলেন, আমি আমার জমির উপর মার্কেট করছি। কাজও প্রায় শেষ। বুধবার আমি আমার কাটিমন আমের বাগানে কাজ করছিলাম। সেখানে ফিদ্দু মেম্বার গিয়ে আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি টাকা দিতে পারবো না বলে জানালে সে আমার মার্কেট ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর মাত্র এক ঘন্টা পর তার দলবল নিয়ে মার্কেট ভাংচুর করে। তারা প্রায় ২ ঘন্টা ধরে আমার দোকানঘরগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলে। আমি ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টা জানালেও পুলিশ আসেনি। সেনাবাহিনীর কাছে ফোন দিলে তারা থানায় অভিযোগ দিয়ে তারপর যোগাযোগ করতে বলেন। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন কিভাবে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। দেশটা কি মগের মুল্লুক হয়ে গেল। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফেরদৌস রহমান ফিদ্দু ও মাহাবুবুল হক বাবলু’র সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, পদাগঞ্জহাটে দোকান ভাংচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )