
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় বনবিভাগের একটি জমির কিছু অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় স্থানীয় যুবসমাজ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আওয়ামীলীগ সমর্থিত রাব্বী হাসান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় হেলেঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সাথে লাগোয়া বনবিভাগের সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজের খেলাধুলার সমস্যা হওয়ায় তারা বনবিভাগের ওই জমির কিছু অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্য সম্প্রতি সংস্কার করেছেন।
খেলার মাঠ সংস্কার করার সময় সেখানে থাকা ২০-২৫ টি পুরনো কলাগাছ কেটে ফেলেন স্থানীয়রা। কিন্তু বনবিভাগের কাছ থেকে জমি লিজকারী রাব্বি হাসান নিজ স্বার্থ হাসিলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বনবিভাগের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদকারী রাব্বীর কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। গাছগুলো কে বা কারা কাটলো তার প্রত্যক্ষদর্শী কোন স্বাক্ষীও নেই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের মতে খেলার মাঠের জন্য কয়েকটি গাছ কেটে ফেলে কিছু যুবক।
কিন্তু অনবরত মিডিয়া কর্মীদের ডেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারা শুরু করেন রাব্বি হাসান। ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদও হয়েছে। এতে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নানামুখী প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করেন সকালের বাণীর প্রতিনিধি। এসময় বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি কার লিজ জমি কার? আর কে গাছ কেটেছে আমরা সঠিকভাবে জানি না। এই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির কোন যোগশাযোশ নেই। যুগ্ন আহবায়ক শাহ আলম বলেন, মাঠের রাজনীতিতে যখন ব্যস্ত সময় পার করছি একটি চক্র আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। সেখানে বিএনপির নাম ওঠার প্রশ্নই ওঠে না, একজনের কলাগাছ কেটে বিএনপির কি ইন্টারেস্ট থাকতে পারে। তিনি সরকারি জমি লিজ নিয়েছেন সেখানে পুকুর খনন করেছেন। নিজেই গাছ কেটে জমি খালি করে সেখানে আরও একটি পুকুর খনন করার কথা বলে বেড়াচ্ছেন। সরকারি লিজের জমিতে পুকুর খনন করতে পারেন কি না। আমরা সেটা নিয়েও কোন খোজখবর নেয়নি। কেন বাঁধা দেব। আমাদের তো কোন স্বার্থ নেই। একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান শহিদার।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ঘটনাটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ততটা নয়। প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় কয়েকজন যুবক খেলার মাঠের জন্য জায়গা পরিস্কার করেছেন। তারা সেখানে কিছু মাটি ফেলেছে যাতে খেলাধুলা করার পরিবেশ হয়। কিন্তু বিএনপি বা কোন রাজনৈতিক দলের কথা কেন উঠলো বিষয়টি জানা নেই। এমনকি গণমাধ্যমে আসা কিছু বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সেখানে যে নাম ব্যবহার করা হয়েছে তিনি তার বক্তব্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে শোনা যাচ্ছে। তথ্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাব্বি হাসান বলেন, বনবিভাগ থেকে জমি লিজ নিয়ে আমি সেখানে চাষাবাদ করে আসছি। পুকুর খনন করার বিষয়টি মিথ্যা। খেলার মাঠ করার জন্য জমির প্রয়োজন হলে সেটার নিয়মনীতি আছে। গাছগুলো কাটার কারণে আমি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছি। বিএনপির ছেলেপেলেরাই এসব ঘটিয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোস্তফা কামাল সকালের বাণীকে বলেন, বিষয়টা নিয়ে থানায় লোকজন আসছিল। তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Related