


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের পর আইনসম্মতভাবে বিবাহ সম্পন্ন হলেও শ্বশুরবাড়ির স্বীকৃতি না পাওয়া, স্বামীকে আত্মগোপনে রাখা এবং নববধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী নীতি রানি রায় (২১) খানসামা উপজেলার ৩নং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের শাহাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন।
বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে তার সঙ্গে একই ইউনিয়নের মধুসূদনপাড়ার অন্তর চন্দ্র রায় তপু (২১)-এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ঢাকায় অবস্থানরত অন্তর চন্দ্র রায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নীতি রানীকে ঢাকায় আসার জন্য প্রস্তাব দেন। পরিবারের অজান্তে গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে আনুমানিক ২টার দিকে নীতি রানি ঢাকা চলে যান। পরে মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে তিনি জানান, ঢাকায় এভিডএভিডের মাধ্যমে অন্তরের সাথে বৈধভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। বিবাহের পর সংসার জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে ১৪ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে নীতি রানি স্বামীসহ শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়।
অন্তর চন্দ্র রায় তপুর পিতা অজিত চন্দ্র রায় শ্যামল (৫০) ও মাতা ভক্তি রানি (৪৫) নানা প্রলোভন ও কৌশলের মাধ্যমে ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে আত্মগোপনে রাখেন। একইসঙ্গে নববধূ নীতি রানীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী নীতি রানি অভিযোগ করেন, “বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়, গালিগালাজ করা হয় এবং মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হয়। আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমি বাধ্য হয়ে চলে যাই।” তনি আরও বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমি শুধু আমার বৈধ স্বামীর সঙ্গে নিরাপদভাবে সংসার করতে চাই। বর্তমানে নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছি এবং প্রশাসনের কাছে আমার জীবন ও বৈবাহিক অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ছেলের পরিবার তাদের প্রভাব ব্যবহার করে জানিয়ে দিয়েছে “কোনো অবস্থাতেই তারা এই বিয়ে মেনে নেবে না বা মীমাংসায় বসবে না।”
ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা ভবেশ্বর রায় বলেন, “আমার মেয়ে আইনসম্মতভাবে বিয়ে করেছে। এখন তাকে ঘরছাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বামীকে আত্মগোপনে রেখে মেয়েটিকে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।” এই বিষয়ে আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া যোগাযোগের সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মেয়ের পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মেয়ের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।