


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ভেজালের মোড় এলাকা থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩-সিপিসি-১ এর অভিযানে ৯ কেজি ২৫০ গ্রাম ওজনের প্রাচীন কালো পাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযান শেষে র্যাব সদস্যরা জানান, “দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রত্নসম্পদ চোরাচালান রোধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভেজালের মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯ কেজি ২৫০ গ্রাম ওজনের একটি কালো পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়। এ সময় খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের আমরত শাহপাড়া গ্রামের তছির উদ্দিন ছেলে আব্দুল মাজেদ (৫০) এবং পার্শ্ববর্তী বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগডোমা গ্রামের শেখ বরকত আলীর ছেলে আলী আজম (৬৫) কে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মূর্তিটি প্রত্নমূল্যবান এবং
অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের খানসামা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা মূর্তিটি প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। মূর্তির দৈর্ঘ্য ২০.৪ ইঞ্চি, প্রস্থ ৯.২ ইঞ্চি। এটি কালো পাথরের তৈরি। মূর্তির পাদদেশে চারটি ছোট মূর্তি, পাশে ভক্ত সদৃশ দুটি মূর্তি এবং উপরে খোদাই করা নকশা রয়েছে।
কিছু অংশ ভাঙা ও ঘষামাজা অবস্থায় পাওয়া গেছে। আটকরা দীর্ঘদিন ধরে একটি পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এই মূর্তিটি পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক আমার দেশকে বলেন, “র্যাব দুইজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি প্রাচীন কালো পাথরের তৈরি বিষ্ণু মূর্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।