


ঈদের ছুটিতে বাবার সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে আর ফেরা হলো না দুই ভাইবোনের। আনন্দ করতে গিয়ে মুহূর্তেই সব শেষ। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে নাগর নদে বাবার চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে গেল ১১ বছরের বোন ও ৬ বছরের ভাই। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বোনের নিথর দেহ উদ্ধার করা গেলেও ভাইয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর বকুয়া ইউনিয়নের মানিকহাড়ি গ্রামে।
নিহত শিশুর নাম সাবিনা আক্তার (১১) এবং নিখোঁজ রয়েছে তার ছোট ভাই সাদ্দাম হোসেন (৬)। তাদের বাবা আমিরুল ইসলাম রংপুর থেকে পরিবার নিয়ে মানিকহাড়ি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে এসেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা জানান, আমিরুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে দুই সন্তান সাবিনা ও সাদ্দামকে নিয়ে বাড়ির পাশে নাগর নদে গোসল করতে যান তিনি। বাবা ও সন্তানেরা মিলে পানিতে নেমে আনন্দ করছিলেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ নদীর গভীর অংশে চলে যায় দুই শিশু। চোখের পলকে স্রোতের টানে তলিয়ে যায় তারা।
সন্তানদের ডুবে যেতে দেখে বাবা আমিরুল ইসলাম তাদের বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু পারেননি। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে নদী থেকে উদ্ধার করলেও শিশু দুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
খবর পেয়ে গ্রামবাসী নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সাবিনার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ছোট ভাই সাদ্দামের কোনো খোঁজ মেলেনি। আদরের মেয়ের লাশ বুকে জড়িয়ে বাবার আর্তনাদে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
৩ নম্বর বকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “রংপুর থেকে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। বাবার সামনেই দুই সন্তান পানিতে ডুবে গেল। আমরা মেয়েটির লাশ পেয়েছি, কিন্তু ছেলেটি এখনো নিখোঁজ।”
এ বিষয়ে হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্য শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিখোঁজ শিশু সাদ্দামকে উদ্ধারে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছিল ।