


রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের আঁখ ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গত ১৫/০৭/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে গর্ভবতী নারী ও গর্ভজাত সন্তান হত্যা সংক্রান্ত ঘটনায় এসআই (নিঃ) মোঃ নজরুল ইসলাম (বিপি নং-৭৮৯৮০৫৭৫৩৯) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করলে পীরগঞ্জ থানার মামলা নং-২৬, জিআর নং-৩০৬/২০২৩, দায়রা নং-১৬৩৩/২০২৪, তারিখ-১৫/০৭/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড মোতাবেক রুজু হয়।
মামলাটির তদন্তকালে প্রকাশ পায় যে, প্রায় তিন বছর পূর্বে ঢাকার আশুলিয়াস্থ হামিম গার্মেন্টসে চাকরিকালীন সময়ে আসামি মোঃ মাসুদ মিয়ার সাথে মৃতা শান্তনা খাতুনের পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শারীরিক সম্পর্কের ফলে শান্তনা খাতুন গর্ভবতী হন। এ অবস্থায় মৃতা আসামিকে বিবাহের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে আসামি বিষয়টি গোপন রেখে স্ত্রী-সন্তানসহ নিজ গ্রাম পীরগঞ্জে চলে আসে।
পরবর্তীতে শান্তনা খাতুন আসামির গ্রামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় প্রদান করেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিবাহের দাবি উত্থাপন করেন। ঘটনার দিন শান্তনা খাতুন মামলা দায়েরের ভয় প্রদর্শন করলে আসামি তাকে সাথে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে আখ ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সময় মৃতার পেটে আঘাত করার ফলে গর্ভজাত সন্তানও মৃত্যুবরণ করে।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি মোঃ মাসুদ মিয়া, পিতা-মোঃ সাহেব মিয়া, মাতা-মোছাঃ জোসনা বেগম, সাং-মোনাইল, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুরকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিজ্ঞ আদালত মামলাটির বিচারকার্য শেষে অদ্য ১৮/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, রংপুর ফজলে খোদা মোঃ নাজির মহোদয় উক্ত মামলার আসামি মোঃ মাসুদ মিয়াকে দোষী সাব্যস্তপূর্বক মৃত্যুদণ্ড এবং ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।