


রংপুরের পীরগাছায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে পীরগাছা আমলী আদালতের বিচারক সোহেল রানা এ আদেশ দেন। আটকরা হলেন উপজেলার ত্রিপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে কাওছার হোসেন ও মহিষমুড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন জনি। বাদীপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহিষমুড়ি মুসল্লিপাড়া এলাকার দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আসামীরা প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন সদস্য পাশের সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম মিলনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে মিলনের বোন ফিরোজা বেগম তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ তাদের হামলার মাধ্যমে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামিরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ফিরোজা বেগমকে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরা হয়, মাথা রক্তাক্ত জখমসহ তার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ৯৯৯ এ তথ্য পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিলনের মায়ের ওপর হামলা চালিয়েও গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম মিলনের বোন ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। বাদী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, গলার চেইন ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
কিন্তু পুলিশ দেরিতে মামলা নিয়েছে। এখন উল্টো আসামিরা আমাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়েরের চেষ্টা করছে।’ মঞ্জুরুল আলম মিলন বলেন, ‘মামলার অন্য কয়েকজন আসামি জামিনে বের হয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’