


রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিড়িয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার জালাল উদ্দিনকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। গত ৩০ অক্টোবর ১৪ইং সালে সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে যোগদানের পর থেকে একের পর এক মনগড়া সিদ্ধান্ত, অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্বে অবহেলা সহ নানা অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে দেয়া প্রণোদনার টাকা আত্মসাৎ করার করণে গত ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দূর্নীতির দায়ে সুপার জালাল উদ্দিনকে নিজ প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
পরে সুপার জালাল উদ্দিন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ হায়দার খান খালিদ এর উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রণোদনার টাকা গত নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেয়ার অঙ্গীকার বসদ্ধ করায় গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। নৈশ্য প্রহরী মনোয়ারুল ইসলাম ২০১৪ইং সালে যোগদানের পর থেকে যথারীতি চাকুরী করে আসছেন। কিন্তু সুপার জালাল উদ্দিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদ ফাঁকা থাকলেও নিয়োগ বাণিজ্যের স্বার্থে একই ( নৈশ্য প্রহরী) পদে দুইজনকে নিয়োগ দেন। দশ বছর আগে থেকে চাকুরীরত মনোয়ারুলকে সংশোধনীর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পথে পদায়নের পায়তারা করলে নিরাপত্তা প্রহরী মনোয়ারুল সুপারের বিরুদ্ধে উপজেলা নিবার্হী অফিসার, শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন ।
অভিযোগে মনোয়ারুল বলেন ,আমি উত্তর পানাপুকুর গিড়িয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে নিয়োগপত্র প্রাপ্ত হয়ে গত ০৪ মার্চ ২০১৪ তারিখে এম.এল.এস.এস (পিয়ন) হিসাবে যোগদান করেন মনোয়ারুল ইসলাম। গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে এম,পি,ও ভুক্ত হয়। ইনডেক্স নং- N ২১০৭১১০। ২০২৪ সালে এসে সুপার জালাল উদ্দিন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এম.এল.এস.এস (নৈশ প্রহরী) পদ থেকে সড়িয়ে, আমাকে স্ট্যাপিং প্যাটার্ণে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে দেখিয়ে নিয়োগের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করেছেন এবং আমার নৈশ প্রহরী পদে অন্য একজনকে নতুন করে নিয়োগ দিয়েছেন। যাহা ২০২০ নীতিমালা বহির্ভূত।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ ব্যবস্থাপনা জবাবদিহি অনুদান (এসএমএজি/ এমএমএজি/ জিবিএজি) হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা ওই মাদ্রাসার ৫টি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়।শিক্ষকদের প্রণোদনা, বইপত্র লাইব্রেরি শিক্ষা উপকরণ এবং গবেষণাগার সরঞ্জাম ইত্যাদি, শিক্ষার্থীদের ফ্যাসিলিটি, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন( প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীদের ফ্যাসিলিটির উন্নয়নের জন্য এই পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষকদের প্রণোদনার ১ লক্ষ্য টাকা দিলেও অবশিষ্ট ৪ লক্ষ্য টাকা তিনি আত্মসাত করেন।
সহকারী সুপার শহীদ আলী ও একাধিক শিক্ষক জানান, মাদ্রাসার ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও শুধুমাত্র শিক্ষকদের প্রণোদনার ১লাখ টাকা দিয়েছে। বরাদ্দের অবশিষ্ট ৪ লাখ টাকা সুপার সাহেব নিজেই নিয়েছেন। সুপার জালাল উদ্দিন যোগদানের পর থেকে কোন প্রকার টিউশন ফি আমরা পাইনি। উত্তর পানাপুকুর গিড়িয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বলেন,শিক্ষার্থীদের ফ্যাসিলিটি, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার টাকা না দেওয়ায় আজ আমাদের অভিভাবক এলাকাবাসী সহ সুপার জালাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি, টাকা দিয়ে তারপর যাবে । পরে পুলিশ এসে সুপারকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আল এমরান উত্তর পানাপুকুর গিড়িয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার জালাল উদ্দিনকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, সুপার জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়ায় গেছে, তাকে শোকজ নোটিশ করা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।