


রংপুর মহানগরীর ১২ নং ওয়ার্ড ভবানীপুর গুচ্চ গ্রাম এলাকায় ঘাঘট নদী থেকে আইনের তোয়াক্কা না করে দিনে-রাতে সমান তালে চলছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহা উৎসব। এর ফলে একদিকে যেমন এলাকার উর্বর আবাদি জমির পরিমাণ কমছে অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে বসতবাড়ি। ঘাঘট নদীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে ঘাঘট নদীতে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত বেশ কয়েকটি হেভিওয়েট ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এলাকায় চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এমনকি এসব এলাকায় থেমে নেই মাটি কাটার কাজ। আশ্রয় প্রকল্পের বসতবাড়ির লোকজন অভিযোগ করছেন দিনরাত নদী থেকে বালু উত্তোলন ও আবাদি জমির উর্বর মাটি কাটা চলে। মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক মাহিদ্রা টলি চলাচলের কারণে রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। এছাড়াও গাড়ির শব্দ ও ধুলার কারণে বাইরে বের হওয়া যায় না। নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়ায় নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর ও ফসলী জমি।
এসব বালু উত্তোলনকারীদের হাত থেকে বাদ পড়ছে না একটি সরকারী প্রাইমারী স্কুল ও মসজিদ। ঘাঘট নদীতে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীর গর্ত করার ফলে আশপাশের আবাদি জমি ও বসত বাড়ি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। জমির মালিক ও বালু উত্তোলন কারবারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পান না এলাকার সাধারন মানুষ। মাঝে মাঝে পুলিশ ও সাংবাদিক এসে শুধু ছবিই তোলে, কিন্তু কোন প্রতিকার হয় না মাটি কাটার। এ বিষয়ে আশ্রয় প্রকল্পের বসবাসকারী আজিজার রহমান, আব্দুর রহমান, মোক্তার হোসেন বলেন, আমার থাকার ঘর ঘেঁষে আবাদি জমি কেটে গভীর করা হচ্ছে। ভবানীপুর এলাকার মহির পান্ডার ছেলে শাফিউল আলম ও তার ভাই মিলে মাটি কেটে তাঁরা অন্যত্রে বিক্রি করছেন।
পাশের বাড়ী-ঘর যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। সব সময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাছাড়া সারা দিন রাত ড্রেজার মেশিন ট্রাকের শব্দে ঘুমাতে পারি না। সন্তানেরা পড়তে পারে না। ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা অবৈধ। এছাড়াও বসত বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে মাটি কাটার বৈধতা নেই। চাষের জমি খনন করে মাটি কাটার জন্য প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শাফিউল আলম বলেন, আমার এবিষয়ে জানা নেই।
এ বিষয়ে কাদের ইসলাম কৃষক বলেন, প্রতিবছর মাটি কেটে আবাদি জমি ধ্বংস করা হয়। প্রথমবার মাটি ব্যবসায়ীরা জমি সংস্কারের নামে মাটি কেটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। পরের বছরেই আবার সেই জমিকে পুকুর দাবি করে গভীরভাবে খনন করা হয়। এর ফলে আশপাশের জমির পানি থাকে না। আমাদের চাষের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝে মাঝে প্রশাসন জরিমানা করলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না।
রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, মাটি কাটা ও নদী হতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত দুই মাসে দুটি মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অভিযানে গেলে সচেতন মহল ও এলাবাসির সহায়তা প্রয়োজন। তাৎক্ষনিকভাবে পরিবেশ প্রতিকুলে থাকে না, শুধু শ্রমিক ছাড়া স্পটে কাউকে পাওয়া যায় না। টপ সয়েল ও নদীর বালু উত্তোলনে আমাদের এমন অভিযান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।