


রংপুরের কাউনিয়ায় রাতের আঁধারে কৃষকের এক একর ৬ শতাংশ জমির মরিচ ক্ষেত বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। জীবন-জীবিকা নির্বাহ আয়ের একমাত্র উৎস উটতি এই ফসলের স্বপ্ন নিমিষে ভঙ্গ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক মো. মোখলেছুর রহমান। নিভৃতপল্লী টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ ক্ষেত পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর বুকচিরে জেগে ওঠা চরের জমিতে দুইমাস আগে রোপণ করা ক্ষেতজুড়ে টগবগে মরিচ গাছ ছিড়ে-উপড়ে ফেলেন দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগী কৃষক মোখলেছুর রহমান বলেন, এক একর ৬ শতাংশ জমিতে প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ করে মরিচের চারা রোপণ করেছিলেন। সার্বক্ষণিকভাবে দুই মাসের বেশি দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরিচর্যা করেছেন। অধিকাংশ মরিচ গাছে ফুলও এসেছে। মঙ্গলবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখেন কেবা কারা সব মরিচ গাছ তুলে ফেলেছে। এতে তাঁর অন্তত ১৪ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কথাগুলো বলতে গিয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন।
তিনি চরগনাই গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে এবং একজন প্রান্তিক সফল কৃষক। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন চরাঞ্চলের অন্য চাষিরা। নিজেদের ক্ষোভ ও শঙ্কার কথা ব্যক্ত করে স্থানীয় কৃষক নজির হোসেন, মানিক মিয়া ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে কিন্তু তার ফসল নষ্ট করে রোজগারের পথ বন্ধ করা, কোন সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শরিফ জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া আকতার বলেন, ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ঘৃণিত কাজ। এতে শুধু চাষির ক্ষতি হয়নি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা তিনি পাবেন।